সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে ওবামা প্রশাসনের সময় ইসরাইল ইরানের ওপর সামরিক হামলার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্লিঙ্কেনের এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
ব্লিঙ্কেনের দেওয়া তথ্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ওবামার ওপর চাপ: ব্লিঙ্কেন জানান, ইসরাইলি নেতারা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের হুঁশিয়ারি ছিল—যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি হামলায় অংশ না নেয়, তবে ইসরাইল একতরফাভাবেই আক্রমণ চালাবে।
ওবামার প্রত্যাখ্যান: ওবামা এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেননি। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের বদলে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ‘মাসকুলার ডিপ্লোম্যাসি’ বা শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের শ্রেষ্ঠ উপায়। এই ধারাবাহিকতা থেকেই পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক ‘ইরান পারমাণবিক চুক্তি’ (JCPOA) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
৭ অক্টোবরের পরের মিথ্যা তথ্য: ব্লিঙ্কেন আরও একটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরাইলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ‘ভুল তথ্য’ দিয়েছিলেন। ইসরাইল দাবি করেছিল যে, হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে বড় ধরনের হামলা চালাতে যাচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে তারা একটি আগাম হামলার (Pre-emptive Strike) জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্ররোচিত করেছিল।
যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে: ব্লিঙ্কেনের মতে, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মাত্র ৩০ মিনিট দূরে ছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সময়মতো ইসরাইলি তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় সে যাত্রা বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।
ব্লিঙ্কেনের এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময় এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ চলছে এবং আজই তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে ওবামা প্রশাসনের সময় ইসরাইল ইরানের ওপর সামরিক হামলার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্লিঙ্কেনের এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
ব্লিঙ্কেনের দেওয়া তথ্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ওবামার ওপর চাপ: ব্লিঙ্কেন জানান, ইসরাইলি নেতারা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের হুঁশিয়ারি ছিল—যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি হামলায় অংশ না নেয়, তবে ইসরাইল একতরফাভাবেই আক্রমণ চালাবে।
ওবামার প্রত্যাখ্যান: ওবামা এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেননি। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের বদলে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ‘মাসকুলার ডিপ্লোম্যাসি’ বা শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের শ্রেষ্ঠ উপায়। এই ধারাবাহিকতা থেকেই পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক ‘ইরান পারমাণবিক চুক্তি’ (JCPOA) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
৭ অক্টোবরের পরের মিথ্যা তথ্য: ব্লিঙ্কেন আরও একটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরাইলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ‘ভুল তথ্য’ দিয়েছিলেন। ইসরাইল দাবি করেছিল যে, হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে বড় ধরনের হামলা চালাতে যাচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে তারা একটি আগাম হামলার (Pre-emptive Strike) জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্ররোচিত করেছিল।
যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে: ব্লিঙ্কেনের মতে, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মাত্র ৩০ মিনিট দূরে ছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সময়মতো ইসরাইলি তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় সে যাত্রা বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।
ব্লিঙ্কেনের এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময় এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ চলছে এবং আজই তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন