ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি: ঘনীভূত হচ্ছে মহাযুদ্ধের মেঘ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬

ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি: ঘনীভূত হচ্ছে মহাযুদ্ধের মেঘ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নতুন ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মোড় নিতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশটিতে সীমিত আকারে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে। এনবিসি নিউজ ও দ্য ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরানের অভ্যন্তরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা বিশেষ সেনাদল পাঠিয়ে কৌশলগত স্থাপনাগুলো দখলে নেওয়ার বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন।

ট্রাম্পের ‘ভেনিজুয়েলা মডেল’ ও পরমাণু লক্ষ্য হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প এই অভিযানকে ভেনিজুয়েলার আদলে সাজাতে চান। তার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নিরাপদ করা এবং এমন একটি শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যারা তেল উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিকল্প হিসেবে প্রেসিডেন্টের টেবিলে রয়েছে, যদিও এটি এখনও মূল অভিযানের চূড়ান্ত অংশ নয়।

পেন্টাগন ও সমরবিদদের সতর্কতা পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার ভয়াবহতা নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সমরবিদদের মতে, স্থল অভিযান শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি ও মার্কিন বাহিনীর ওপর ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাঙ্কগুলোর মতে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার পরিকল্পনাও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: ‘আমরা অপেক্ষা করছি’ মার্কিন এই পরিকল্পনার কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমরা চাই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তটি নিক। আমরা স্থলপথে মার্কিন সেনাদের অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত এবং তাদের জন্যই অপেক্ষা করছি।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য ‘মহাবিপর্যয়’ ডেকে আনবে।

কুর্দি জোটের তৎপরতা এদিকে, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটাতে ছয়টি কুর্দি গোষ্ঠী মিলে একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেছে। এই জোটের নেতারা জানিয়েছেন, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জোট গঠন এবং তাদের অস্ত্র সরবরাহ প্রক্রিয়ায় মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি যুক্ত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি: ঘনীভূত হচ্ছে মহাযুদ্ধের মেঘ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নতুন ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মোড় নিতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশটিতে সীমিত আকারে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে। এনবিসি নিউজ ও দ্য ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরানের অভ্যন্তরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা বিশেষ সেনাদল পাঠিয়ে কৌশলগত স্থাপনাগুলো দখলে নেওয়ার বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন।

ট্রাম্পের ‘ভেনিজুয়েলা মডেল’ ও পরমাণু লক্ষ্য হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প এই অভিযানকে ভেনিজুয়েলার আদলে সাজাতে চান। তার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নিরাপদ করা এবং এমন একটি শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যারা তেল উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিকল্প হিসেবে প্রেসিডেন্টের টেবিলে রয়েছে, যদিও এটি এখনও মূল অভিযানের চূড়ান্ত অংশ নয়।

পেন্টাগন ও সমরবিদদের সতর্কতা পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার ভয়াবহতা নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সমরবিদদের মতে, স্থল অভিযান শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি ও মার্কিন বাহিনীর ওপর ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাঙ্কগুলোর মতে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার পরিকল্পনাও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: ‘আমরা অপেক্ষা করছি’ মার্কিন এই পরিকল্পনার কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমরা চাই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তটি নিক। আমরা স্থলপথে মার্কিন সেনাদের অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত এবং তাদের জন্যই অপেক্ষা করছি।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য ‘মহাবিপর্যয়’ ডেকে আনবে।

কুর্দি জোটের তৎপরতা এদিকে, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটাতে ছয়টি কুর্দি গোষ্ঠী মিলে একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেছে। এই জোটের নেতারা জানিয়েছেন, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জোট গঠন এবং তাদের অস্ত্র সরবরাহ প্রক্রিয়ায় মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি যুক্ত রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ