ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তেহরানের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬

তেহরানের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ

ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের টারমার্কে পুড়ে যাওয়া বিমান দেখা গেছে। এর আগে ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল।

তেহরানের বাসিন্দারা বিবিসি ফার্সিকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক রাতটি তাদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তারা বলেন, প্রায় প্রতি ঘণ্টায় হামলার শব্দ শোনা গেছে এবং পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করলে দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তার প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে তারা শনাক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হুমকি প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে। নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের বসরায় একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার পর আগুন লেগে যায়। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, তেল কমপ্লেক্সের ভেতরে বিদেশি কোম্পানির আবাসিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।

জাতিসংঘে ইরানের দূত আমির সাইয়েদ ইরাভানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলা

তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানবন্দরের কিছু অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের ভেতরে আগুনে জ্বলতে থাকা বিমান এবং আকাশে উঠতে থাকা ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী। প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব ভিডিও শেয়ার করেছেন।

শুক্রবার স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতেও বিমানবন্দরে একাধিক বিমান দেখা গিয়েছিল। এর আগে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছিল, তারা ইরানে বিস্তৃত পরিসরে নতুন হামলা শুরু করেছে।

৪ মার্চও এই বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তখন ইসরায়েল দাবি করেছিল যে বিমানবন্দরের প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কিছু অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টার তৈরির একটি অংশও ছিল।

সাম্প্রতিক হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কোন কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এবারের হামলা আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ছিল।

সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত

সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ছোঁড়া ছয়টি ড্রোন এবং একটি বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ড্রোনগুলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় মরুভূমি এলাকায় প্রতিহত করা হয়। ওই এলাকায় বিপুল তেলের মজুদ রয়েছে এবং শায়বাহ তেলক্ষেত্রও সেখানে অবস্থিত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই তেলক্ষেত্রই হামলার লক্ষ্য ছিল।

সৌদি আরামকো জানিয়েছে, শায়বাহ তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয়।

এছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির দিকে ধেয়ে যাচ্ছিল বলেও জানানো হয়েছে। ইরানে হামলার আগে ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন বিমান বাহিনী এই ঘাঁটিকে ব্যবহার করে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছিল।

ইরানে ৩ হাজার টার্গেটে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারের বেশি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, চলমান অভিযানে ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তাদের দাবি, হামলার ক্ষেত্রে এমন সব স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যেগুলোকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করে দেওয়া।

তবে বিবিসি ভেরিফাই স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও যাচাই করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের স্কুল, হাসপাতালসহ বেশ কিছু বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তেহরানের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের টারমার্কে পুড়ে যাওয়া বিমান দেখা গেছে। এর আগে ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল।

তেহরানের বাসিন্দারা বিবিসি ফার্সিকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক রাতটি তাদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তারা বলেন, প্রায় প্রতি ঘণ্টায় হামলার শব্দ শোনা গেছে এবং পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করলে দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তার প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে তারা শনাক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হুমকি প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে। নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের বসরায় একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার পর আগুন লেগে যায়। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, তেল কমপ্লেক্সের ভেতরে বিদেশি কোম্পানির আবাসিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।

জাতিসংঘে ইরানের দূত আমির সাইয়েদ ইরাভানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলা

তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানবন্দরের কিছু অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের ভেতরে আগুনে জ্বলতে থাকা বিমান এবং আকাশে উঠতে থাকা ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী। প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব ভিডিও শেয়ার করেছেন।

শুক্রবার স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতেও বিমানবন্দরে একাধিক বিমান দেখা গিয়েছিল। এর আগে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছিল, তারা ইরানে বিস্তৃত পরিসরে নতুন হামলা শুরু করেছে।

৪ মার্চও এই বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তখন ইসরায়েল দাবি করেছিল যে বিমানবন্দরের প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কিছু অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টার তৈরির একটি অংশও ছিল।

সাম্প্রতিক হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কোন কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এবারের হামলা আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ছিল।

সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত

সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ছোঁড়া ছয়টি ড্রোন এবং একটি বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ড্রোনগুলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় মরুভূমি এলাকায় প্রতিহত করা হয়। ওই এলাকায় বিপুল তেলের মজুদ রয়েছে এবং শায়বাহ তেলক্ষেত্রও সেখানে অবস্থিত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই তেলক্ষেত্রই হামলার লক্ষ্য ছিল।

সৌদি আরামকো জানিয়েছে, শায়বাহ তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয়।

এছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির দিকে ধেয়ে যাচ্ছিল বলেও জানানো হয়েছে। ইরানে হামলার আগে ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন বিমান বাহিনী এই ঘাঁটিকে ব্যবহার করে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছিল।

ইরানে ৩ হাজার টার্গেটে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারের বেশি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, চলমান অভিযানে ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তাদের দাবি, হামলার ক্ষেত্রে এমন সব স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যেগুলোকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করে দেওয়া।

তবে বিবিসি ভেরিফাই স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও যাচাই করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের স্কুল, হাসপাতালসহ বেশ কিছু বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ