ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানকে ঘিরে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের
ছবি সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের বদলে কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে এবং তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পেন্টাগনের কাছে অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সদর দপ্তরে মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এসব কর্মকর্তা অন্তত ১০০ দিন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সহায়তা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত জনবল ও সামরিক সম্পদ মোতায়েনের এই উদ্যোগ ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন শুরুতে যে সময়সীমা বিবেচনা করেছিল তার তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এ অভিযান আরও দীর্ঘ হতে পারে।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বড় পরিসরের সামরিক অভিযান সাধারণত কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে দ্রুত অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ জোগাড়ের চেষ্টা থেকে বোঝা যায়, সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তৃতি সম্পর্কে শুরুতে পুরোপুরি প্রস্তুতি ছিল না।

একটি আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা প্রথমে ইসরায়েলকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পক্ষে মত দেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এতে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেন। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক শত মানুষ আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৫ জন শিশু রয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো দ্বৈত হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া না হলে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সমর্থন রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে যে লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, বর্তমান জোট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানকে ঘিরে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের বদলে কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে এবং তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পেন্টাগনের কাছে অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সদর দপ্তরে মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এসব কর্মকর্তা অন্তত ১০০ দিন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সহায়তা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত জনবল ও সামরিক সম্পদ মোতায়েনের এই উদ্যোগ ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন শুরুতে যে সময়সীমা বিবেচনা করেছিল তার তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এ অভিযান আরও দীর্ঘ হতে পারে।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বড় পরিসরের সামরিক অভিযান সাধারণত কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে দ্রুত অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ জোগাড়ের চেষ্টা থেকে বোঝা যায়, সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তৃতি সম্পর্কে শুরুতে পুরোপুরি প্রস্তুতি ছিল না।

একটি আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা প্রথমে ইসরায়েলকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পক্ষে মত দেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এতে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেন। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক শত মানুষ আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৫ জন শিশু রয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো দ্বৈত হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া না হলে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সমর্থন রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে যে লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, বর্তমান জোট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ