ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দাবি ইরানের

সৌদির আরামকোতে ইরান নয়, হামলা চালায় ইসরায়েল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬

সৌদির আরামকোতে ইরান নয়, হামলা চালায় ইসরায়েল
চিত্র : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো’র তেল শোধনাগারে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলাকে ইসরায়েলের একটি সুপরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ছদ্মবেশী অপারেশন হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ইরানে পরিচালিত নিজেদের সামরিক অপরাধ থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরাতেই ইসরায়েল ভিন্ন পরিচয়ে এই গোপন অভিযান চালিয়েছে। ইরানের একটি উচ্চপদস্থ সামরিক সূত্র দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, গত সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ড্রোন সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের রাস তানুরা রিফাইনারিতে হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তবে ইরানি সামরিক সূত্রটি এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে এই অঞ্চলে কেবল আমেরিকান এবং ইসরায়েলি সামরিক সম্পদ ও স্থাপনাগুলোই তাদের লক্ষ্যবস্তু। আরামকোর মতো বেসামরিক বা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো আক্রমণ ইরান চালায়নি।


সামরিক সূত্রটি আরও সতর্কবার্তা প্রদান করে জানিয়েছে যে, তাদের কাছে থাকা গোপন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরও ইসরায়েলের পরবর্তী ছদ্মবেশী হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে চায় বলে তেহরান মনে করছে। মূলত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশলের মাধ্যমে প্রকৃত আক্রমণকারী আড়ালে থেকে শত্রুর ওপর দোষ চাপিয়ে সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাস তানুরা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল শোধনাগার হওয়ায় এই হামলার রেশ ধরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যদিও আরামকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবুও এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক নতুন ও জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের এই তথাকথিত ইসরায়েলি প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সৌদির আরামকোতে ইরান নয়, হামলা চালায় ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো’র তেল শোধনাগারে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলাকে ইসরায়েলের একটি সুপরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ছদ্মবেশী অপারেশন হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ইরানে পরিচালিত নিজেদের সামরিক অপরাধ থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরাতেই ইসরায়েল ভিন্ন পরিচয়ে এই গোপন অভিযান চালিয়েছে। ইরানের একটি উচ্চপদস্থ সামরিক সূত্র দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।


এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, গত সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ড্রোন সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের রাস তানুরা রিফাইনারিতে হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তবে ইরানি সামরিক সূত্রটি এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে এই অঞ্চলে কেবল আমেরিকান এবং ইসরায়েলি সামরিক সম্পদ ও স্থাপনাগুলোই তাদের লক্ষ্যবস্তু। আরামকোর মতো বেসামরিক বা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো আক্রমণ ইরান চালায়নি।


সামরিক সূত্রটি আরও সতর্কবার্তা প্রদান করে জানিয়েছে যে, তাদের কাছে থাকা গোপন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরও ইসরায়েলের পরবর্তী ছদ্মবেশী হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে চায় বলে তেহরান মনে করছে। মূলত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশলের মাধ্যমে প্রকৃত আক্রমণকারী আড়ালে থেকে শত্রুর ওপর দোষ চাপিয়ে সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


রাস তানুরা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল শোধনাগার হওয়ায় এই হামলার রেশ ধরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যদিও আরামকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবুও এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক নতুন ও জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের এই তথাকথিত ইসরায়েলি প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ