ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, সংঘর্ষে নিহত ৮


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬

খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, সংঘর্ষে নিহত ৮

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে কয়েক শ বিক্ষোভকারী। আজ রবিবার (১ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপি ও এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থা ইদি ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের পর এ পর্যন্ত আটজনের মরদেহ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তেজিত জনতা কনস্যুলেটের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং ভবনের জানালা ও দরজার কাচ ভাঙচুর করছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ভবনের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকাল থেকেই ইরানপন্থি শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া কনস্যুলেট এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যার জেরে করাচিতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ইরান আজ প্রচণ্ড আঘাত হানার হুমকি দিচ্ছে। তাদের সেটা না করাই ভালো। যদি তারা তা করে, তবে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি।”

করাচির এই ঘটনার পর পাকিস্তানে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন স্থাপনা ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনি হত্যার এই প্রতিক্রিয়া কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, সংঘর্ষে নিহত ৮

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে কয়েক শ বিক্ষোভকারী। আজ রবিবার (১ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপি ও এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থা ইদি ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের পর এ পর্যন্ত আটজনের মরদেহ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তেজিত জনতা কনস্যুলেটের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং ভবনের জানালা ও দরজার কাচ ভাঙচুর করছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ভবনের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকাল থেকেই ইরানপন্থি শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া কনস্যুলেট এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যার জেরে করাচিতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ইরান আজ প্রচণ্ড আঘাত হানার হুমকি দিচ্ছে। তাদের সেটা না করাই ভালো। যদি তারা তা করে, তবে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি।”

করাচির এই ঘটনার পর পাকিস্তানে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন স্থাপনা ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনি হত্যার এই প্রতিক্রিয়া কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ