ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মিশরে বাংলাদেশিসহ ৭ হাজার শিক্ষার্থীর সম্মিলিত ইফতার


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মিশরে বাংলাদেশিসহ ৭ হাজার শিক্ষার্থীর সম্মিলিত ইফতার

প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশ মিশরের বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এর মধ্যে আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। রমজান মাসে তাদের অনেকের প্রিয় ইফতারস্থল হলো ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ বছর প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য মসজিদে টোকেনের মাধ্যমে ইফতারের আয়োজন করা হয়। আসরের আজান ঘনিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা মসজিদের পূর্ব পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। গেটে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে টোকেন দেওয়া হয়, যা নিয়ে তারা নির্ধারিত নিয়মে ইফতারে অংশ নেন।

সুপ্রাচীন মিনারবেষ্টিত এই মসজিদের অভ্যন্তরে বিরাজ করে প্রশান্ত এক পরিবেশ। কাঠের বিভাজিত অংশে নারী শিক্ষার্থীরা ইফতার ও নামাজ আদায় করেন। মাঝখানের খোলা উঠানে নামাজ শেষে কেউ কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকেন, কেউবা তাসবিহ পাঠে ব্যস্ত থাকেন—সব মিলিয়ে এটি এক অনুপম আধ্যাত্মিক দৃশ্য সৃষ্টি করে।

ইফতারের আয়োজন পরিচালিত হয় আল-আজহারের আন্ডার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মাদ আল-দুওয়াইনি-এর তত্ত্বাবধানে। কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই ইফতারের সামগ্রী সাজিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। মাগরিবের আজানের প্রায় ৩০ মিনিট আগে শিক্ষার্থীরা ইফতারের জন্য বসতে বলেন। আজানের পূর্ব মুহূর্তে কোরআনের তেলাওয়াত হয়।

আজান ধ্বনিত হতেই শিক্ষার্থীরা খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করেন, এরপর নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে পরিবেশিত হয় বাকি খাবার। ইফতারের মেন্যুতে থাকে মিশরের ঐতিহ্যবাহী নানা পদ—খেজুর, জুস, ভাত, ‘ঈশ বালাদি’ (স্থানীয় রুটি), ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, কোপ্তা, সবজি এবং মিশরীয় মিষ্টান্ন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শেরপুরের আবু সাওবান আকন্দ বলেন, “মাতৃভূমি, পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে বিদেশে রমজান কাটাচ্ছি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে একত্রে ইফতার করার অনুভূতি আলাদা। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই মহতি উদ্যোগের জন্য আন্তরিক মোবারকবাদ।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মিশরে বাংলাদেশিসহ ৭ হাজার শিক্ষার্থীর সম্মিলিত ইফতার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশ মিশরের বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এর মধ্যে আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। রমজান মাসে তাদের অনেকের প্রিয় ইফতারস্থল হলো ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ বছর প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য মসজিদে টোকেনের মাধ্যমে ইফতারের আয়োজন করা হয়। আসরের আজান ঘনিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা মসজিদের পূর্ব পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। গেটে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে টোকেন দেওয়া হয়, যা নিয়ে তারা নির্ধারিত নিয়মে ইফতারে অংশ নেন।

সুপ্রাচীন মিনারবেষ্টিত এই মসজিদের অভ্যন্তরে বিরাজ করে প্রশান্ত এক পরিবেশ। কাঠের বিভাজিত অংশে নারী শিক্ষার্থীরা ইফতার ও নামাজ আদায় করেন। মাঝখানের খোলা উঠানে নামাজ শেষে কেউ কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকেন, কেউবা তাসবিহ পাঠে ব্যস্ত থাকেন—সব মিলিয়ে এটি এক অনুপম আধ্যাত্মিক দৃশ্য সৃষ্টি করে।

ইফতারের আয়োজন পরিচালিত হয় আল-আজহারের আন্ডার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মাদ আল-দুওয়াইনি-এর তত্ত্বাবধানে। কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই ইফতারের সামগ্রী সাজিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। মাগরিবের আজানের প্রায় ৩০ মিনিট আগে শিক্ষার্থীরা ইফতারের জন্য বসতে বলেন। আজানের পূর্ব মুহূর্তে কোরআনের তেলাওয়াত হয়।

আজান ধ্বনিত হতেই শিক্ষার্থীরা খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করেন, এরপর নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে পরিবেশিত হয় বাকি খাবার। ইফতারের মেন্যুতে থাকে মিশরের ঐতিহ্যবাহী নানা পদ—খেজুর, জুস, ভাত, ‘ঈশ বালাদি’ (স্থানীয় রুটি), ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, কোপ্তা, সবজি এবং মিশরীয় মিষ্টান্ন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শেরপুরের আবু সাওবান আকন্দ বলেন, “মাতৃভূমি, পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে বিদেশে রমজান কাটাচ্ছি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে একত্রে ইফতার করার অনুভূতি আলাদা। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই মহতি উদ্যোগের জন্য আন্তরিক মোবারকবাদ।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ