যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ বা বৈশ্বিক পাল্টা শুল্কনীতিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই ঐতিহাসিক রায় কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কয়েক হাজার কোটি টাকার ভাগ্যের চাবিকাঠি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। দীর্ঘ আলোচনা ও নানামুখী দরকষাকষির পর সম্প্রতি শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। যদিও এই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা ছিল, তবুও দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটাতে ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশলে পথচলা শুরু করেছিলেন।
তবে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতের সর্বশেষ রায়ে পুরো বিষয়টি এক নতুন মোড় নিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে প্রক্রিয়ায় এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা দেশটির সংবিধানের পরিপন্থি। এই রায়ের ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার করা চুক্তির আইনি ভিত্তি এখন কতটুকু কার্যকর থাকবে? শুল্ক বাতিল হলেও চুক্তির অন্য কঠোর শর্তগুলো বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে এখন খাত সংশ্লিষ্ট মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আদালতের এই রায়ে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মতো বাণিজ্যিক অংশীদারদের জন্য আরও বড় সংকটের কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের মতে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ এই আইনি লড়াইয়ের প্রভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সরকারকে এখনই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে, আগের চুক্তির অধীনে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেগুলোর পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এখন গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ বা বৈশ্বিক পাল্টা শুল্কনীতিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করায় বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই ঐতিহাসিক রায় কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কয়েক হাজার কোটি টাকার ভাগ্যের চাবিকাঠি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। দীর্ঘ আলোচনা ও নানামুখী দরকষাকষির পর সম্প্রতি শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। যদিও এই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা ছিল, তবুও দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটাতে ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশলে পথচলা শুরু করেছিলেন।
তবে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতের সর্বশেষ রায়ে পুরো বিষয়টি এক নতুন মোড় নিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে প্রক্রিয়ায় এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা দেশটির সংবিধানের পরিপন্থি। এই রায়ের ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার করা চুক্তির আইনি ভিত্তি এখন কতটুকু কার্যকর থাকবে? শুল্ক বাতিল হলেও চুক্তির অন্য কঠোর শর্তগুলো বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে এখন খাত সংশ্লিষ্ট মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আদালতের এই রায়ে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মতো বাণিজ্যিক অংশীদারদের জন্য আরও বড় সংকটের কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের মতে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ এই আইনি লড়াইয়ের প্রভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সরকারকে এখনই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে, আগের চুক্তির অধীনে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেগুলোর পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এখন গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন