মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রম ও প্রস্তুতির কারণে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং যুদ্ধজাহাজ, সামরিক বিমান ও বিভিন্ন ধরনের মহড়ার মাধ্যমে সামরিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রকাশিত সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে আগের তুলনায় আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো উন্নত করা হয়েছে।
ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করেছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি সংযোজন করেছে। বিশেষ করে সেমনান প্রদেশের শাহরুদ শহরে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠন করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন প্রতিরক্ষা অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো আকস্মিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়া সম্ভব হয়।
এছাড়া, সম্ভাব্য আকাশ হামলা মোকাবিলার জন্য ইরান তাদের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি নতুন ফাইটার জেট সংগ্রহের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। বিমান ঘাঁটিগুলোও সংস্কার করা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
কূটনৈতিক পর্যায়েও সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেছেন। তবে ওই বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সমাধান বা সমঝোতা অর্জিত হয়নি।
এদিকে, ইরান নতুন করে একটি ‘ডিফেন্স কাউন্সিল’ গঠন করেছে, যার সচিব হিসেবে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কাউন্সিলের প্রধান লক্ষ্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
পারস্য উপসাগর ও স্ট্রেইট অব হরমুজ এলাকায় ইরানের নৌবাহিনী সামরিক মহড়া জোরদার করেছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়াও পরিচালনা করেছে। স্ট্রেইট অব হরমুজ আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ অঞ্চলের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হলে তা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক তেলের বাজার ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রম ও প্রস্তুতির কারণে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং যুদ্ধজাহাজ, সামরিক বিমান ও বিভিন্ন ধরনের মহড়ার মাধ্যমে সামরিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রকাশিত সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে আগের তুলনায় আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো উন্নত করা হয়েছে।
ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করেছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি সংযোজন করেছে। বিশেষ করে সেমনান প্রদেশের শাহরুদ শহরে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠন করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন প্রতিরক্ষা অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো আকস্মিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়া সম্ভব হয়।
এছাড়া, সম্ভাব্য আকাশ হামলা মোকাবিলার জন্য ইরান তাদের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি নতুন ফাইটার জেট সংগ্রহের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। বিমান ঘাঁটিগুলোও সংস্কার করা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
কূটনৈতিক পর্যায়েও সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেছেন। তবে ওই বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সমাধান বা সমঝোতা অর্জিত হয়নি।
এদিকে, ইরান নতুন করে একটি ‘ডিফেন্স কাউন্সিল’ গঠন করেছে, যার সচিব হিসেবে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কাউন্সিলের প্রধান লক্ষ্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
পারস্য উপসাগর ও স্ট্রেইট অব হরমুজ এলাকায় ইরানের নৌবাহিনী সামরিক মহড়া জোরদার করেছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়াও পরিচালনা করেছে। স্ট্রেইট অব হরমুজ আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ অঞ্চলের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হলে তা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক তেলের বাজার ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন