ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজনে লাখ-লাখ কুকুর নিধন করছে মরক্কো: ‘কুকুর গণহত্যা’র অভিযোগ


অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজনে লাখ-লাখ কুকুর নিধন করছে মরক্কো: ‘কুকুর গণহত্যা’র অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে সামনে রেখে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার অজুহাতে লাখ লাখ পথকুকুর নিধনের অভিযোগ উঠেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর বিরুদ্ধে। প্রাণী অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ কুকুর হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রাণী অধিকার সংগঠনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অস্কার মনোনীত বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিবেশ আন্দোলনকারী মার্ক রাফালো বিষয়টিকে একটি ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন কোয়ালিশন (আইএডাব্লিউপিসি) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার আগে থেকেই মরক্কোতে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ প্রাণীকে বিষপ্রয়োগ ও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছিল। তবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর এই নিধনযজ্ঞ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, কুকুরগুলোকে স্ট্রিকনিন বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে বা খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বন্দুকধারীরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করছে।

প্রাণী অধিকার কর্মীদের দাবি, এই নিধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত অমানবিক। অনেক সময় কুকুরগুলোকে গুলি করার পর যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। এমনকি ‘ভুয়া ডিসপেনসারি’তে নিয়ে গিয়ে গণকবর দেওয়া বা জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মতো ভয়াবহ অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্ক রাফালো লিখেছেন, “সহিংসতার বদলে মানবিক সমাধান সম্ভব। একটি ক্রীড়া আসরের জন্য লাখ লাখ প্রাণীকে হত্যা করা কোনোভাবেই অগ্রগতি হতে পারে না।”

তবে লন্ডনে নিযুক্ত মরক্কোর দূতাবাস এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পথকুকুর নিধনের কোনো সরকারি পরিকল্পনা নেই এবং দেশটি প্রাণী ব্যবস্থাপনায় মানবিক ও টেকসই পদ্ধতি অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, গত আগস্টে মরক্কো একটি বিল প্রস্তাব করেছে যেখানে প্রাণীদের আঘাত করলে কারাদণ্ডের বিধান রাখা হলেও, পথপ্রাণীদের খাদ্য বা আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্টো জরিমানার মতো বিতর্কিত বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে।

ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তারা আইএডাব্লিউপিসি-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, “প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা মরক্কো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দেব এবং আয়োজক হিসেবে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষায় স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজনে লাখ-লাখ কুকুর নিধন করছে মরক্কো: ‘কুকুর গণহত্যা’র অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে সামনে রেখে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার অজুহাতে লাখ লাখ পথকুকুর নিধনের অভিযোগ উঠেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর বিরুদ্ধে। প্রাণী অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ কুকুর হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রাণী অধিকার সংগঠনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অস্কার মনোনীত বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিবেশ আন্দোলনকারী মার্ক রাফালো বিষয়টিকে একটি ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন কোয়ালিশন (আইএডাব্লিউপিসি) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার আগে থেকেই মরক্কোতে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ প্রাণীকে বিষপ্রয়োগ ও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছিল। তবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর এই নিধনযজ্ঞ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, কুকুরগুলোকে স্ট্রিকনিন বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে বা খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বন্দুকধারীরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করছে।

প্রাণী অধিকার কর্মীদের দাবি, এই নিধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত অমানবিক। অনেক সময় কুকুরগুলোকে গুলি করার পর যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। এমনকি ‘ভুয়া ডিসপেনসারি’তে নিয়ে গিয়ে গণকবর দেওয়া বা জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মতো ভয়াবহ অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্ক রাফালো লিখেছেন, “সহিংসতার বদলে মানবিক সমাধান সম্ভব। একটি ক্রীড়া আসরের জন্য লাখ লাখ প্রাণীকে হত্যা করা কোনোভাবেই অগ্রগতি হতে পারে না।”

তবে লন্ডনে নিযুক্ত মরক্কোর দূতাবাস এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পথকুকুর নিধনের কোনো সরকারি পরিকল্পনা নেই এবং দেশটি প্রাণী ব্যবস্থাপনায় মানবিক ও টেকসই পদ্ধতি অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, গত আগস্টে মরক্কো একটি বিল প্রস্তাব করেছে যেখানে প্রাণীদের আঘাত করলে কারাদণ্ডের বিধান রাখা হলেও, পথপ্রাণীদের খাদ্য বা আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্টো জরিমানার মতো বিতর্কিত বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে।

ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তারা আইএডাব্লিউপিসি-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, “প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা মরক্কো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দেব এবং আয়োজক হিসেবে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষায় স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ