রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ভাজাপোড়া ও ভারী খাবারের মহোৎসব প্রায় প্রতিটি ঘরেই শুরু হয়। কিন্তু অসময়ে অতিরিক্ত ও তেলযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে অনেকেরই পেটে গ্যাস, বদহজম কিংবা তীব্র ক্লান্তি দেখা দেয়। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে পুরো মাস সুস্থ থেকে রোজা রাখা সম্ভব।
সারাদিন রোজা রাখার পর পাকস্থলী বেশ সংবেদনশীল থাকে। তাই ইফতারের শুরুতেই অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রাকৃতিক চিনি ও পটাশিয়ামের জোগান পেতে দুটি খেজুর ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা ভালো। এরপর পানি ও খেজুর খাওয়ার পর অন্তত ১০-১৫ মিনিট বিরতি দিলে পরিপাকতন্ত্র মূল খাবারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় পায়। বিরতির পর স্যুপ বা ফলের রস গ্রহণ করা যেতে পারে।
রাতের খাবার খুব বেশি ভারী না রাখাই উত্তম। ভাতের সঙ্গে আঁশসমৃদ্ধ সবজি, পাতলা ডাল এবং প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ বা মুরগির মাংস রাখা উচিত। খাবার গ্রহণের সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং অল্প খাবারেই তৃপ্তি পাওয়া যায়।
প্রথাগত পিঁয়াজু-বেগুনি বা ডুবো তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। তেলের ব্যবহার কমাতে খাবার বেইক বা গ্রিল করে প্রস্তুত করা ভালো। একইভাবে বাজারের রসালো মিষ্টির বদলে দই-চিড়া, মধু বা তাজা ফল দিয়ে তৈরি ডেজার্ট গ্রহণ করলে রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
সেহরিতে এমন খাবার নির্বাচন করা প্রয়োজন যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে। ওটস, লাল চালের ভাত, ডিম বা বাদাম এ ক্ষেত্রে কার্যকর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানি পান। ইফতারে একবারে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে।
রমজান কেবল ত্যাগের মাস নয়, এটি শরীরকে বিষমুক্ত করারও একটি সুযোগ। পরিমিতিবোধ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে কাটতে পারে সুস্থ ও আনন্দময় রমজান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ভাজাপোড়া ও ভারী খাবারের মহোৎসব প্রায় প্রতিটি ঘরেই শুরু হয়। কিন্তু অসময়ে অতিরিক্ত ও তেলযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে অনেকেরই পেটে গ্যাস, বদহজম কিংবা তীব্র ক্লান্তি দেখা দেয়। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে পুরো মাস সুস্থ থেকে রোজা রাখা সম্ভব।
সারাদিন রোজা রাখার পর পাকস্থলী বেশ সংবেদনশীল থাকে। তাই ইফতারের শুরুতেই অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রাকৃতিক চিনি ও পটাশিয়ামের জোগান পেতে দুটি খেজুর ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা ভালো। এরপর পানি ও খেজুর খাওয়ার পর অন্তত ১০-১৫ মিনিট বিরতি দিলে পরিপাকতন্ত্র মূল খাবারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় পায়। বিরতির পর স্যুপ বা ফলের রস গ্রহণ করা যেতে পারে।
রাতের খাবার খুব বেশি ভারী না রাখাই উত্তম। ভাতের সঙ্গে আঁশসমৃদ্ধ সবজি, পাতলা ডাল এবং প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ বা মুরগির মাংস রাখা উচিত। খাবার গ্রহণের সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং অল্প খাবারেই তৃপ্তি পাওয়া যায়।
প্রথাগত পিঁয়াজু-বেগুনি বা ডুবো তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। তেলের ব্যবহার কমাতে খাবার বেইক বা গ্রিল করে প্রস্তুত করা ভালো। একইভাবে বাজারের রসালো মিষ্টির বদলে দই-চিড়া, মধু বা তাজা ফল দিয়ে তৈরি ডেজার্ট গ্রহণ করলে রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
সেহরিতে এমন খাবার নির্বাচন করা প্রয়োজন যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে। ওটস, লাল চালের ভাত, ডিম বা বাদাম এ ক্ষেত্রে কার্যকর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানি পান। ইফতারে একবারে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে।
রমজান কেবল ত্যাগের মাস নয়, এটি শরীরকে বিষমুক্ত করারও একটি সুযোগ। পরিমিতিবোধ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে কাটতে পারে সুস্থ ও আনন্দময় রমজান।

আপনার মতামত লিখুন