পানি খাওয়ার পরও জিভ ও মুখ শুকিয়ে থাকা এখন অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি শুধুই পানির ঘাটতির কারণে নয়; বরং শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ও জীবনযাপনগত কারণে এ সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় ‘ড্রাই মাউথ’ বা Xerostomia, যা মূলত লালা উৎপাদন কমে যাওয়ার ফল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো লালা স্বাভাবিক পরিমাণে তৈরি না হওয়া। এতে পানি যতই পান করা হোক, মুখে আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ থাকে না। বিশেষজ্ঞরা জানান, অ্যালার্জির ওষুধ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, ঘুমের ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধসহ বেশ কিছু ঔষধ মুখ শুষ্ক করার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।
এ ছাড়াও ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে যায়, ফলে তৃষ্ণা কমে না এবং মুখ শুকিয়ে থাকে। নাক বন্ধ থাকা, সাইনাস সমস্যা বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে রাতের ঘুমেও মুখ দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। ধূমপান, অতিরিক্ত চা–কফি, অ্যালকোহল এবং লবণাক্ত খাবার মুখ শুকানোর প্রবণতা আরও বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অনেক সময় পানি শরীরে ঠিকভাবে শোষিত না হলে বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে পানি পান করেও মুখের শুষ্কতা দূর হয় না। মুখ শুকানোর পাশাপাশি যদি বারবার তৃষ্ণা, ঘন প্রস্রাব, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জিভে খসখসে অনুভূতি বা খাবার গিলতে অসুবিধা দেখা দেয় তাহলে এটি কোনো বড় রোগের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেরি না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত। কারণ দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ, মুখে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির মতো ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ সমস্যা কমাতে অল্প অল্প করে পানি পান, নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া, চিনি ছাড়া চুইংগাম ব্যবহার, ধূমপান–অ্যালকোহল কমানো এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সমস্যা ক্রমাগত বেড়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানান তারা।
আপনার মতামত লিখুন