ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে আপস করতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরুর পর রাভানচি এই মন্তব্য করেন। আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে থাকা তাখত-রাভানচি জানান, আলোচনা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এবং ইরানের শত্রু ইসরায়েল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করে আসছে, যা ইরান বরাবর অস্বীকার করেছে। তবে বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি সংরক্ষণের অধিকার ইরান অনড় অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করেন।
তাখত-রাভানচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান আপস করতে প্রস্তুত, যার মধ্যে তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানো অন্তর্ভুক্ত। তবে ওয়াশিংটনকেও তেহরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, যা ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, “আমরা যদি তাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখি, তবে আমরা চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে থাকব।”
বিবিসি জানিয়েছে, ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব কিনা—এ বিষয়ে তাখত-রাভানচি আপসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে আলোচনার ফলাফল এখনই বলা সম্ভব নয়। রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এই মজুতের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় রয়েছে। গত বছরের ১০ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা শেষবার এই মজুত পরিদর্শন করেছিলেন। এরপরই ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা ঘটে। আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছিল, যা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে অনুমোদিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার চেয়ে অনেক বেশি এবং পারমাণবিক বোমার জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবি জানিয়েছিলেন। তাখত-রাভানচি বলেন, “শূন্য সমৃদ্ধকরণের বিষয় এখন আর কোনও ইস্যু নয় এবং এটি আলোচনার টেবিলেও নেই।”
রোববার ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আসন্ন আলোচনায় ইরানের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়ও আলোচনার মধ্যে আসতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে আপস করতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরুর পর রাভানচি এই মন্তব্য করেন। আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে থাকা তাখত-রাভানচি জানান, আলোচনা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এবং ইরানের শত্রু ইসরায়েল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করে আসছে, যা ইরান বরাবর অস্বীকার করেছে। তবে বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি সংরক্ষণের অধিকার ইরান অনড় অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করেন।
তাখত-রাভানচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান আপস করতে প্রস্তুত, যার মধ্যে তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানো অন্তর্ভুক্ত। তবে ওয়াশিংটনকেও তেহরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, যা ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, “আমরা যদি তাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখি, তবে আমরা চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে থাকব।”
বিবিসি জানিয়েছে, ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব কিনা—এ বিষয়ে তাখত-রাভানচি আপসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে আলোচনার ফলাফল এখনই বলা সম্ভব নয়। রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এই মজুতের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় রয়েছে। গত বছরের ১০ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা শেষবার এই মজুত পরিদর্শন করেছিলেন। এরপরই ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা ঘটে। আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছিল, যা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে অনুমোদিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার চেয়ে অনেক বেশি এবং পারমাণবিক বোমার জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবি জানিয়েছিলেন। তাখত-রাভানচি বলেন, “শূন্য সমৃদ্ধকরণের বিষয় এখন আর কোনও ইস্যু নয় এবং এটি আলোচনার টেবিলেও নেই।”
রোববার ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আসন্ন আলোচনায় ইরানের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়ও আলোচনার মধ্যে আসতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন