ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

লাঙ্গল প্রতীকের ভরাডুবি

এক শতাংশ ভোটও পায়নি জাতীয় পার্টি


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এক শতাংশ ভোটও পায়নি জাতীয় পার্টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এক সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা জাতীয় পার্টি। টানা তিন মেয়াদ সংসদে কথিত বিরোধী দলের আসনে থাকা দলটি এবারের নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি। এমনকি ভোটের হিসাবে এক শতাংশ সমর্থনও অর্জন করতে পারেনি তারা। দেড় শতাধিক আসনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার পরও ফলাফল ছিল হতাশাজনক।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত ভোটের হার তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট। অনেক ছোট দলও এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। এক বছর বয়সী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় পার্টির তুলনায় প্রায় তিন গুণ ভোট অর্জন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জাতীয় পার্টি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। সারাদেশে দলটি একটি আসনও অর্জন করতে পারেনি। দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ অধিকাংশ প্রার্থী কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে পারেননি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আশির দশকে ক্ষমতায় থাকাকালে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। নব্বইয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। পরবর্তী সময়েও জাতীয় পার্টি তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ছিল এবং বিভিন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পেত। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হতো। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন বহুবার।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের সময় জাতীয় পার্টি সেই জোটে ছিল। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়। এরপর টানা তিন মেয়াদ সংসদে বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান করে দলটি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনমনে দলটির ভাবমূর্তি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে। স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি, বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

এবারের নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠে। তবু নির্বাচনে অংশ নিলেও ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে জাতীয় পার্টির সংগঠনগত ও জনসমর্থনের সংকট। ধারাবাহিক ভাঙন ও রাজনৈতিক সমঝোতার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগের মধ্য দিয়ে দলটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এক শতাংশ ভোটও পায়নি জাতীয় পার্টি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এক সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা জাতীয় পার্টি। টানা তিন মেয়াদ সংসদে কথিত বিরোধী দলের আসনে থাকা দলটি এবারের নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি। এমনকি ভোটের হিসাবে এক শতাংশ সমর্থনও অর্জন করতে পারেনি তারা। দেড় শতাধিক আসনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার পরও ফলাফল ছিল হতাশাজনক।


রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত ভোটের হার তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট। অনেক ছোট দলও এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। এক বছর বয়সী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় পার্টির তুলনায় প্রায় তিন গুণ ভোট অর্জন করেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট।


এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জাতীয় পার্টি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। সারাদেশে দলটি একটি আসনও অর্জন করতে পারেনি। দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ অধিকাংশ প্রার্থী কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে পারেননি।


সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আশির দশকে ক্ষমতায় থাকাকালে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। নব্বইয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। পরবর্তী সময়েও জাতীয় পার্টি তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ছিল এবং বিভিন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পেত। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হতো। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন বহুবার।


২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের সময় জাতীয় পার্টি সেই জোটে ছিল। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়। এরপর টানা তিন মেয়াদ সংসদে বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান করে দলটি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনমনে দলটির ভাবমূর্তি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে। স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি, বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।


এবারের নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠে। তবু নির্বাচনে অংশ নিলেও ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে জাতীয় পার্টির সংগঠনগত ও জনসমর্থনের সংকট। ধারাবাহিক ভাঙন ও রাজনৈতিক সমঝোতার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগের মধ্য দিয়ে দলটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ