করোনা ভাইরাসের চেয়েও বড় মহামারী কি ভবিষ্যতে আঘাত হানতে পারে—এ প্রশ্ন নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জিকা ও নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও বিশ্বকে উদ্বেগে রেখেছে। বিজ্ঞানীরা আগেই সতর্ক করেছেন, আগামী দিনে করোনাভাইরাসের মতো সংক্রামক রোগ আবারও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন অজানা সংক্রামক রোগের সম্ভাব্য নামও দেওয়া হয়েছে ‘ডিজিজ এক্স’।
আগামীতে কোন কোন রোগ অতিমারির কারণ হতে পারে, তার একটি তালিকা তৈরি করেছে World Health Organization (হু)। সেখানে ভাইরাসজনিত একাধিক রোগের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ঠিক কোন রোগ কবে এবং কোথায় ছড়িয়ে পড়বে কিংবা তার প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া এখনো কঠিন।
এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য মহামারীর আগাম সংকেত পেতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে Indian Council of Medical Research (আইসিএমআর)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত একটি বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেছে তারা, যা ভবিষ্যৎ সংক্রমণ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও আইসিএমআরের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে এআই-ভিত্তিক সার্ভিল্যান্স মডেল। এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, পশুপাখির শরীর থেকে ছড়ানো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়লে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব হবে।
ভারতে গত কয়েক বছরে করোনার পাশাপাশি নিপা ও জিকার মতো ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এসব রোগ মূলত পশুপাখির শরীর থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এআই অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করবে, এ ধরনের ভাইরাস ভবিষ্যতে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত চার দশকে ১৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেবিস, ব্রুসেলোসিস ও লাইম ডিজিজ উল্লেখযোগ্য। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ও ক্যানাইন করোনাভাইরাস নিয়েও সতর্ক করেছে হু। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পশুর শরীরে থাকা এ ধরনের ভাইরাস ভবিষ্যতে মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আইসিএমআর জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থা ভারতের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসা সংক্রামক রোগের প্রতিবেদন এবং গবেষণাগারে সংগৃহীত নমুনার জিনগত বিশ্লেষণ করবে। কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা একাধিক এলাকায় যদি একই ধরনের সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক সংকেত দেবে এই যন্ত্র।
এ ছাড়া জুনোটিক ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পশু বা পাখির শরীর থেকে ছড়ানো ভাইরাস—যেমন নিপা বা বার্ড ফ্লু—নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বন ও পশুপালন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হবে, প্রাণিজগতে কোন ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে এবং তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কতটা।
এআই যন্ত্রটি ভাইরাসের জিনগত রূপান্তর বা মিউটেশনও বিশ্লেষণ করবে। কোনো ভাইরাসে জিনগত পরিবর্তন শুরু হলে সেটি ভবিষ্যতে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হবে। লক্ষ্য একটাই—মহামারী আঘাত হানার আগেই সম্ভাব্য বিপদের সংকেত দিয়ে বিশ্বকে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
করোনা ভাইরাসের চেয়েও বড় মহামারী কি ভবিষ্যতে আঘাত হানতে পারে—এ প্রশ্ন নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জিকা ও নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও বিশ্বকে উদ্বেগে রেখেছে। বিজ্ঞানীরা আগেই সতর্ক করেছেন, আগামী দিনে করোনাভাইরাসের মতো সংক্রামক রোগ আবারও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন অজানা সংক্রামক রোগের সম্ভাব্য নামও দেওয়া হয়েছে ‘ডিজিজ এক্স’।
আগামীতে কোন কোন রোগ অতিমারির কারণ হতে পারে, তার একটি তালিকা তৈরি করেছে World Health Organization (হু)। সেখানে ভাইরাসজনিত একাধিক রোগের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ঠিক কোন রোগ কবে এবং কোথায় ছড়িয়ে পড়বে কিংবা তার প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া এখনো কঠিন।
এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য মহামারীর আগাম সংকেত পেতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে Indian Council of Medical Research (আইসিএমআর)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত একটি বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেছে তারা, যা ভবিষ্যৎ সংক্রমণ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও আইসিএমআরের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে এআই-ভিত্তিক সার্ভিল্যান্স মডেল। এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, পশুপাখির শরীর থেকে ছড়ানো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়লে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব হবে।
ভারতে গত কয়েক বছরে করোনার পাশাপাশি নিপা ও জিকার মতো ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এসব রোগ মূলত পশুপাখির শরীর থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এআই অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করবে, এ ধরনের ভাইরাস ভবিষ্যতে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত চার দশকে ১৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেবিস, ব্রুসেলোসিস ও লাইম ডিজিজ উল্লেখযোগ্য। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ও ক্যানাইন করোনাভাইরাস নিয়েও সতর্ক করেছে হু। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পশুর শরীরে থাকা এ ধরনের ভাইরাস ভবিষ্যতে মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আইসিএমআর জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থা ভারতের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসা সংক্রামক রোগের প্রতিবেদন এবং গবেষণাগারে সংগৃহীত নমুনার জিনগত বিশ্লেষণ করবে। কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা একাধিক এলাকায় যদি একই ধরনের সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক সংকেত দেবে এই যন্ত্র।
এ ছাড়া জুনোটিক ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পশু বা পাখির শরীর থেকে ছড়ানো ভাইরাস—যেমন নিপা বা বার্ড ফ্লু—নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বন ও পশুপালন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হবে, প্রাণিজগতে কোন ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে এবং তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কতটা।
এআই যন্ত্রটি ভাইরাসের জিনগত রূপান্তর বা মিউটেশনও বিশ্লেষণ করবে। কোনো ভাইরাসে জিনগত পরিবর্তন শুরু হলে সেটি ভবিষ্যতে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হবে। লক্ষ্য একটাই—মহামারী আঘাত হানার আগেই সম্ভাব্য বিপদের সংকেত দিয়ে বিশ্বকে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

আপনার মতামত লিখুন