ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে: কারাগার থেকে নির্বাচিত তিন নেতা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে: কারাগার থেকে নির্বাচিত তিন নেতা


শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন তারা। মাথার উপর ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু ইতিহাসের নিয়তি ভিন্ন মোড় নেয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং রাজনীতিতে আসে নাটকীয় পরিবর্তন। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান এই নেতারা। বিরল কোনো ব্যর্থতা নয়; বিপুল ভোটে জয়ী হন তারা। তাঁরা হলেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।

লুৎফুজ্জামান বাবর
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনেরও জন্য জামিন পাননি তিনি। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে তার হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। বাবর কখনো জেল থেকে মুক্তি পাবেন এমন ভাবনাও সুদূরপরাহত মনে হতো।

আগস্টে পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান বাবর। ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরে যান নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন।

আব্দুস সালাম পিন্টু
বাবরের মতোই বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের ইতি ঘটে। জন্মস্থান টাঙ্গাইলে ফিরে স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রায় ২ লাখ ভোটে জয়ী হন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে তিনি বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন। ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে পরিচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর গ্রেফতার হন আজহার। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক দশক কারাবন্দি থাকলেও গত বছর ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে: কারাগার থেকে নির্বাচিত তিন নেতা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন তারা। মাথার উপর ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু ইতিহাসের নিয়তি ভিন্ন মোড় নেয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং রাজনীতিতে আসে নাটকীয় পরিবর্তন। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান এই নেতারা। বিরল কোনো ব্যর্থতা নয়; বিপুল ভোটে জয়ী হন তারা। তাঁরা হলেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।

লুৎফুজ্জামান বাবর
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনেরও জন্য জামিন পাননি তিনি। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে তার হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। বাবর কখনো জেল থেকে মুক্তি পাবেন এমন ভাবনাও সুদূরপরাহত মনে হতো।

আগস্টে পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান বাবর। ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরে যান নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন।

আব্দুস সালাম পিন্টু
বাবরের মতোই বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের ইতি ঘটে। জন্মস্থান টাঙ্গাইলে ফিরে স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রায় ২ লাখ ভোটে জয়ী হন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে তিনি বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন। ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে পরিচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর গ্রেফতার হন আজহার। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক দশক কারাবন্দি থাকলেও গত বছর ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ