ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তারেক রহমানের বিজয়কে যেভাবে দেখছে ভারতীয় মিডিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তারেক রহমানের বিজয়কে যেভাবে দেখছে ভারতীয় মিডিয়া

সব আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে এই তালিকায় একধাপ যেন এগিয়ে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো ছাড়াও টেলিফোন করেছেন।

ভারতের এমন শুভেচ্ছাবার্তা দেশটির গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। সেইসঙ্গে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া শেখ হাসিনার বাণীও প্রকাশ করেছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন

বাংলাদেশের নির্বাচনের পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে প্রধান প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল—"নৌকাবিহীন ভোটে বাংলাদেশের আস্থা চেনা ধানের শিষের উপর, ক্রমশ পিছোতে পিছোতে কুড়ি বছর পর 'সবার আগে' বিএনপি।"

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে খালেদা এবং হাসিনাকে কেন্দ্র করেই। এই অক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বের করে আনার ডাক দিয়েছিলেন জামায়াত, এনসিপির নেতারা। কিন্তু, বাংলাদেশের জনগণ এখনো অচেনা বা অল্প চেনাদের হাতে শাসনভার দিতে স্বচ্ছন্দ নন।

আরেক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—"ভোটে হারলেও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সেরা ফল জামায়েতের, শফিকুরদের উত্থান কি চাপে ফেলে দেবে ভারতকে।"

মোদির অভিনন্দন

একটি শীর্ষ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, "তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট মোদির, একসঙ্গে কাজের বার্তা, শুভেচ্ছা জানালো আমেরিকাও।" একই দিনে পত্রিকাটির অপর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—"ঘনিষ্ঠতা চায় পাকিস্তান, বাংলাদেশে তারেক রহমানের জয় নিশ্চিত হতেই পোস্ট পাক প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টের! কী বার্তা।"

হাসিনার প্রতিক্রিয়া

ভোটের দিন বিকেলে বাংলাদেশের নির্বাচনের খবরের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমটি হাসিনার বার্তা নিয়ে ভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, "সমাজমাধ্যমে হাসিনার দাবি, দেশবাসী এই 'প্রহসনের ভোটকে প্রত্যাখ্যান' করেছেন।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা

আজকালের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, "এপার-ওপার সুসম্পর্কের বার্তা, 'তারেকভাইকে' শুভেচ্ছা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার।" প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপার বাংলায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের পথে বিএনপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, মোদি থেকে মমতা, তারেক রহমানকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যম

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, "দিল্লিতে বসে ভোট প্রত্যাখ্যান হাসিনার, বাংলাদেশের ভোটে জয় নিয়ে তারেক রহমানকে কী বার্তা মোদির?"

সংবাদ প্রতিদিন এক বিশাল ব্যানার শিরোনাম করে—"প্রত্যাবর্তনেই পরিবর্তন।" একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—"ড্রাগনের 'রক্তচক্ষু' 'চিকেনস নেক'-এ! বিএনপি জিততেই 'একসঙ্গে কাজ করার' বার্তা চীনের।"

টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে গুরুত্বের সঙ্গে মোদি-তারেকের ফোনালাপের কথা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতার কাছে নরেন্দ্র মোদি "শান্তি ও অগ্রগতি"র আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলেও সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়।

দ্য হিন্দু বাংলাদেশের নির্বাচনের পরদিনও লাইভ আপডেট দেয়। সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থান নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধও প্রকাশ করে।

ইন্ডিয়া টুডেও বাংলাদেশের নির্বাচন, বিএনপির জয় ও বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দনের সংবাদসহ একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনগুলোয় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে বলে জানানো হয়।

ভারতীয় মিডিয়ার এই ব্যাপক কভারেজ বাংলাদেশের নির্বাচন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিজয়ের প্রতি ভারতের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন নতুন সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তারেক রহমানের বিজয়কে যেভাবে দেখছে ভারতীয় মিডিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সব আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে এই তালিকায় একধাপ যেন এগিয়ে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো ছাড়াও টেলিফোন করেছেন।

ভারতের এমন শুভেচ্ছাবার্তা দেশটির গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। সেইসঙ্গে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া শেখ হাসিনার বাণীও প্রকাশ করেছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন

বাংলাদেশের নির্বাচনের পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে প্রধান প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল—"নৌকাবিহীন ভোটে বাংলাদেশের আস্থা চেনা ধানের শিষের উপর, ক্রমশ পিছোতে পিছোতে কুড়ি বছর পর 'সবার আগে' বিএনপি।"

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে খালেদা এবং হাসিনাকে কেন্দ্র করেই। এই অক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বের করে আনার ডাক দিয়েছিলেন জামায়াত, এনসিপির নেতারা। কিন্তু, বাংলাদেশের জনগণ এখনো অচেনা বা অল্প চেনাদের হাতে শাসনভার দিতে স্বচ্ছন্দ নন।

আরেক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—"ভোটে হারলেও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সেরা ফল জামায়েতের, শফিকুরদের উত্থান কি চাপে ফেলে দেবে ভারতকে।"

মোদির অভিনন্দন

একটি শীর্ষ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, "তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট মোদির, একসঙ্গে কাজের বার্তা, শুভেচ্ছা জানালো আমেরিকাও।" একই দিনে পত্রিকাটির অপর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—"ঘনিষ্ঠতা চায় পাকিস্তান, বাংলাদেশে তারেক রহমানের জয় নিশ্চিত হতেই পোস্ট পাক প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টের! কী বার্তা।"

হাসিনার প্রতিক্রিয়া

ভোটের দিন বিকেলে বাংলাদেশের নির্বাচনের খবরের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমটি হাসিনার বার্তা নিয়ে ভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, "সমাজমাধ্যমে হাসিনার দাবি, দেশবাসী এই 'প্রহসনের ভোটকে প্রত্যাখ্যান' করেছেন।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা

আজকালের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, "এপার-ওপার সুসম্পর্কের বার্তা, 'তারেকভাইকে' শুভেচ্ছা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার।" প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপার বাংলায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের পথে বিএনপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, মোদি থেকে মমতা, তারেক রহমানকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যম

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, "দিল্লিতে বসে ভোট প্রত্যাখ্যান হাসিনার, বাংলাদেশের ভোটে জয় নিয়ে তারেক রহমানকে কী বার্তা মোদির?"

সংবাদ প্রতিদিন এক বিশাল ব্যানার শিরোনাম করে—"প্রত্যাবর্তনেই পরিবর্তন।" একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—"ড্রাগনের 'রক্তচক্ষু' 'চিকেনস নেক'-এ! বিএনপি জিততেই 'একসঙ্গে কাজ করার' বার্তা চীনের।"

টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে গুরুত্বের সঙ্গে মোদি-তারেকের ফোনালাপের কথা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতার কাছে নরেন্দ্র মোদি "শান্তি ও অগ্রগতি"র আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলেও সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়।

দ্য হিন্দু বাংলাদেশের নির্বাচনের পরদিনও লাইভ আপডেট দেয়। সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থান নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধও প্রকাশ করে।

ইন্ডিয়া টুডেও বাংলাদেশের নির্বাচন, বিএনপির জয় ও বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দনের সংবাদসহ একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনগুলোয় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে বলে জানানো হয়।

ভারতীয় মিডিয়ার এই ব্যাপক কভারেজ বাংলাদেশের নির্বাচন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিজয়ের প্রতি ভারতের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন নতুন সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ