ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অতিরিক্ত বিট খেলে শরীরে যা ঘটে


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অতিরিক্ত বিট খেলে শরীরে যা ঘটে

শীতকালে বাজারে প্রচুর পাওয়া লাল‑রঙের এই সবজি বিট বা বিটরুটকে পুষ্টিবিদ ও ডাক্তাররা সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী বলেন। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—অতিরিক্ত পরিমাণে বিট খেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

বিটের পুষ্টিগুণের কারণে এটি রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়ক হলেও, অতিরিক্ত নাইট্রেট (nitrate) শরীরে নেমে গেলে হাইপোটেনশন বা রক্তচাপ অত্যধিক কমে যাওয়া‑র মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে চक्कर, দুর্বলতা বা কখনও কখনও অজ্ঞান হওয়া‑এর মত লক্ষণও ঘটতে পারে।

এছাড়া বিটে থাকা অক্সালেটস উপাদান ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলিয়ে শরীরে জমা হলে কিডনি পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যেই কিডনি সমস্যা বা পাথর তৈরির ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিট খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বিট খাওয়ার পর শরীর থেকে নির্গত প্রস্রাব বা মল মাঝে মাঝে লাল বা গোলাপি রঙ দেখাতে পারে এ অবস্থাকে বিটুরিয়া (beeturia) বলা হয়। এটি স্বাভাবিক হলেও অপ্রত্যাশিত রঙ দেখে অনেকেই প্রথমে ডাক্তারের কাছে ভুল ধারণা নিয়ে যেতে পারেন।

ডিজেস্টিভ সিস্টেমেও অতিরিক্ত বিট খাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। বিটে থাকা ফাইবার ও প্রাকৃতিক চিনি বেশি পরিমাণে নেওয়ার ফলে বিলম্বে গ্যাস, পেট ফোলাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, বিশেষত যদি প্রতি খাবারে বড় বড় পরিমাণে বিট নেওয়া হয়।

আরো কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিট অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বিরল কিছু ক্ষেত্রে অ্যানাফাইলাক্সিস‑এর মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াও ঘটতে পারে, যার ফলে গলাটে টাইটনেস, শ্বাসকষ্ট বা শরীরে ফুলে ওঠার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

সুজ্ঞান ডাক্তারদের মতে, বিটে থাকা বিটা‑ক্যারোটিন অতিরিক্ত হলে শরীরে ভিটামিন‑এ টক্সিসিটি (hypervitaminosis A) এর মতো সিম্পটম দেখা দিতে পারে—যাতে মাথাব্যথা, বমি অবস্থা, জয়েন্টে ব্যথা ও চোখ‑ত্বকের সমস্যা দেখা যেতে পারে।

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা জরুরি: বিটের উচ্চ নাইট্রেট উপাদান মেটহেমোগ্লোবিনেমিয়া নামক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও ঘ্যানঘ্যান অনুভূতি ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ডায়াবেটিস রোগীরা বিটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং প্রাকৃতিক চিনি‑জনিত কারণে রক্তে চিনির পরিমাণ মনিটর করতে বিশেষ সতর্ক থাকবেন। কারণ অতিরিক্ত বিট খাওয়ার ফলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া‑র ঝুঁকি বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে—বিট বা বিটরুট খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ নয়, বরং মধ্যম পরিমাণে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। যারা রক্তচাপের ওষুধ নেন, কিডনি সমস্যায় ভুগছেন বা গর্ভবতী—তাদের আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিট খাওয়া নিরাপদ মাত্রায় সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অতিরিক্ত বিট খেলে শরীরে যা ঘটে

প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

শীতকালে বাজারে প্রচুর পাওয়া লাল‑রঙের এই সবজি বিট বা বিটরুটকে পুষ্টিবিদ ও ডাক্তাররা সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী বলেন। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—অতিরিক্ত পরিমাণে বিট খেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

বিটের পুষ্টিগুণের কারণে এটি রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়ক হলেও, অতিরিক্ত নাইট্রেট (nitrate) শরীরে নেমে গেলে হাইপোটেনশন বা রক্তচাপ অত্যধিক কমে যাওয়া‑র মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে চक्कर, দুর্বলতা বা কখনও কখনও অজ্ঞান হওয়া‑এর মত লক্ষণও ঘটতে পারে।

এছাড়া বিটে থাকা অক্সালেটস উপাদান ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলিয়ে শরীরে জমা হলে কিডনি পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যেই কিডনি সমস্যা বা পাথর তৈরির ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিট খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বিট খাওয়ার পর শরীর থেকে নির্গত প্রস্রাব বা মল মাঝে মাঝে লাল বা গোলাপি রঙ দেখাতে পারে এ অবস্থাকে বিটুরিয়া (beeturia) বলা হয়। এটি স্বাভাবিক হলেও অপ্রত্যাশিত রঙ দেখে অনেকেই প্রথমে ডাক্তারের কাছে ভুল ধারণা নিয়ে যেতে পারেন।

ডিজেস্টিভ সিস্টেমেও অতিরিক্ত বিট খাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। বিটে থাকা ফাইবার ও প্রাকৃতিক চিনি বেশি পরিমাণে নেওয়ার ফলে বিলম্বে গ্যাস, পেট ফোলাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, বিশেষত যদি প্রতি খাবারে বড় বড় পরিমাণে বিট নেওয়া হয়।

আরো কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিট অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বিরল কিছু ক্ষেত্রে অ্যানাফাইলাক্সিস‑এর মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াও ঘটতে পারে, যার ফলে গলাটে টাইটনেস, শ্বাসকষ্ট বা শরীরে ফুলে ওঠার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

সুজ্ঞান ডাক্তারদের মতে, বিটে থাকা বিটা‑ক্যারোটিন অতিরিক্ত হলে শরীরে ভিটামিন‑এ টক্সিসিটি (hypervitaminosis A) এর মতো সিম্পটম দেখা দিতে পারে—যাতে মাথাব্যথা, বমি অবস্থা, জয়েন্টে ব্যথা ও চোখ‑ত্বকের সমস্যা দেখা যেতে পারে।

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা জরুরি: বিটের উচ্চ নাইট্রেট উপাদান মেটহেমোগ্লোবিনেমিয়া নামক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও ঘ্যানঘ্যান অনুভূতি ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ডায়াবেটিস রোগীরা বিটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং প্রাকৃতিক চিনি‑জনিত কারণে রক্তে চিনির পরিমাণ মনিটর করতে বিশেষ সতর্ক থাকবেন। কারণ অতিরিক্ত বিট খাওয়ার ফলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া‑র ঝুঁকি বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে—বিট বা বিটরুট খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ নয়, বরং মধ্যম পরিমাণে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। যারা রক্তচাপের ওষুধ নেন, কিডনি সমস্যায় ভুগছেন বা গর্ভবতী—তাদের আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিট খাওয়া নিরাপদ মাত্রায় সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ