টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল বাণিজ্যিক কাঠামোর ধস নামার উপক্রম হওয়ায় ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সম্প্রচার চুক্তি হারানোর শঙ্কায় রয়েছে সংস্থাটি।
এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির রেশ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের মতো বোর্ডগুলোতে। কারণ এসব দেশের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে আইসিসির লভ্যাংশ থেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত হাইভোল্টেজ ম্যাচটি না হলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জিও স্টার আইসিসির সাথে তাদের চুক্তি বাতিল বা বড় ধরনের জরিমানা দাবি করতে পারে।
আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা (৫০০ মিলিয়ন ডলার)। জিও স্টার ৩ বিলিয়ন ডলারে আইসিসির যে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছে, তার দুই-তৃতীয়াংশই মূলত এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞাপনদাতারা এই একটি ম্যাচের ১০ সেকেন্ডের স্লটের জন্য ২৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন। ফলে ম্যাচটি মাঠে না গড়ালে আইসিসি কেবল বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে।
সংকটের সূত্রপাত মূলত বাংলাদেশকে ঘিরে। নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি তাদের বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পরিষ্কার করেছেন, এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ক্রিকেট বিশ্বের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের এক অবস্থান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে গেলে বণ্টনযোগ্য অর্থের পরিমাণও কমে যাবে। এতে বাংলাদেশের মতো অবকাঠামোনির্ভর ক্রিকেট বোর্ডগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডসহ আইসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুরোধ করলেও ইসলামাবাদ এখনও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ক্রিকেট দুনিয়ার এই জটিল সমীকরণ এখন কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের অস্তিত্ব রক্ষার বড় লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল বাণিজ্যিক কাঠামোর ধস নামার উপক্রম হওয়ায় ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সম্প্রচার চুক্তি হারানোর শঙ্কায় রয়েছে সংস্থাটি।
এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির রেশ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের মতো বোর্ডগুলোতে। কারণ এসব দেশের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে আইসিসির লভ্যাংশ থেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত হাইভোল্টেজ ম্যাচটি না হলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জিও স্টার আইসিসির সাথে তাদের চুক্তি বাতিল বা বড় ধরনের জরিমানা দাবি করতে পারে।
আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা (৫০০ মিলিয়ন ডলার)। জিও স্টার ৩ বিলিয়ন ডলারে আইসিসির যে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছে, তার দুই-তৃতীয়াংশই মূলত এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞাপনদাতারা এই একটি ম্যাচের ১০ সেকেন্ডের স্লটের জন্য ২৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন। ফলে ম্যাচটি মাঠে না গড়ালে আইসিসি কেবল বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে।
সংকটের সূত্রপাত মূলত বাংলাদেশকে ঘিরে। নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি তাদের বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পরিষ্কার করেছেন, এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ক্রিকেট বিশ্বের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের এক অবস্থান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে গেলে বণ্টনযোগ্য অর্থের পরিমাণও কমে যাবে। এতে বাংলাদেশের মতো অবকাঠামোনির্ভর ক্রিকেট বোর্ডগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডসহ আইসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুরোধ করলেও ইসলামাবাদ এখনও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ক্রিকেট দুনিয়ার এই জটিল সমীকরণ এখন কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের অস্তিত্ব রক্ষার বড় লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন