ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে নিপাহর মতো আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত


ডেস্ক রিপোর্ট :
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে নিপাহর মতো আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের মতো আরেকটি প্রাণঘাতী বাদুড়বাহিত ভাইরাস মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং স্নায়ুবিক জটিলতা নিয়ে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। শুরুতে তাদের অসুস্থতাকে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী গবেষণায় জানা গেছে, তারা আক্রান্ত হয়েছিলেন টেরোপাইন অর্থোরিওভাইরাস বা পিআরভি নামের আরেকটি প্রাণঘাতী ভাইরাসে।

আক্রান্ত পাঁচজন রোগীই কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিচিত। তবে পরীক্ষায় তাদের সবারই নিপাহ ভাইরাস নেগেটিভ আসে। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তিনজন দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলায় সমস্যার কথা জানান। এর মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে স্নায়ুবিক জটিলতায় ২০২৪ সালে তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, রোগীদের এই অসুস্থতার মূল কারণ ছিল বাদুড়বাহিত টেরোপাইন অর্থোরিওভাইরাস। বাদুড় ইতোমধ্যেই র‌্যাবিস, নিপাহ, হেনড্রা, মারবার্গ ও সার্সের মতো বহু প্রাণঘাতী জুনোটিক ভাইরাসের বাহক হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেশী দেশগুলোতে পিআরভি সংক্রমণ সাধারণত মৃদু শ্বাসতন্ত্রের রোগ হিসেবে দেখা গেলেও বাংলাদেশে শনাক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ ছিল অনেক বেশি গুরুতর।

‘ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া পাঁচজন রোগীর সবার মধ্যেই তীব্র শ্বাসকষ্ট ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা গেছে, যা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে শনাক্ত পিআরভি সংক্রমণের তুলনায় অনেক বেশি মারাত্মক।

গবেষণার অন্যতম লেখক নিশ্চয় মিশ্র বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে কাঁচা খেজুরের রস পানের স্বাস্থ্যঝুঁকি কেবল নিপাহ ভাইরাসেই সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, এটি নতুন বাদুড়বাহিত ভাইরাস শনাক্তের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে বিস্তৃত নজরদারি কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

গবেষকরা পদ্মা নদী অববাহিকার ওই পাঁচ রোগীর আশপাশ থেকে ধরা পড়া বাদুড়ের শরীরেও জিনগতভাবে একই ধরনের পিআরভি শনাক্ত করেছেন। গবেষণার আরেক লেখক আরিফুল ইসলাম জানান, বাদুড় থেকে মানুষ ও গৃহপালিত পশুর মধ্যে এই ভাইরাস কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং পদ্মা অববাহিকার জনপদগুলোতে বাদুড়বাহিত নতুন ভাইরাসগুলোর সামগ্রিক বাস্তুসংস্থান বোঝার চেষ্টা চলছে।

যেসব এলাকায় কাঁচা খেজুরের রস পান করা হয়, সেখানে শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিপাহ ও পিআরভিসহ অন্যান্য বাদুড়বাহিত ভাইরাস পরীক্ষার পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশে নিপাহর মতো আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের মতো আরেকটি প্রাণঘাতী বাদুড়বাহিত ভাইরাস মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং স্নায়ুবিক জটিলতা নিয়ে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। শুরুতে তাদের অসুস্থতাকে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী গবেষণায় জানা গেছে, তারা আক্রান্ত হয়েছিলেন টেরোপাইন অর্থোরিওভাইরাস বা পিআরভি নামের আরেকটি প্রাণঘাতী ভাইরাসে।


আক্রান্ত পাঁচজন রোগীই কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিচিত। তবে পরীক্ষায় তাদের সবারই নিপাহ ভাইরাস নেগেটিভ আসে। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তিনজন দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলায় সমস্যার কথা জানান। এর মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে স্নায়ুবিক জটিলতায় ২০২৪ সালে তার মৃত্যু হয়।


বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, রোগীদের এই অসুস্থতার মূল কারণ ছিল বাদুড়বাহিত টেরোপাইন অর্থোরিওভাইরাস। বাদুড় ইতোমধ্যেই র‌্যাবিস, নিপাহ, হেনড্রা, মারবার্গ ও সার্সের মতো বহু প্রাণঘাতী জুনোটিক ভাইরাসের বাহক হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেশী দেশগুলোতে পিআরভি সংক্রমণ সাধারণত মৃদু শ্বাসতন্ত্রের রোগ হিসেবে দেখা গেলেও বাংলাদেশে শনাক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ ছিল অনেক বেশি গুরুতর।


‘ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া পাঁচজন রোগীর সবার মধ্যেই তীব্র শ্বাসকষ্ট ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা গেছে, যা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে শনাক্ত পিআরভি সংক্রমণের তুলনায় অনেক বেশি মারাত্মক।


গবেষণার অন্যতম লেখক নিশ্চয় মিশ্র বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে কাঁচা খেজুরের রস পানের স্বাস্থ্যঝুঁকি কেবল নিপাহ ভাইরাসেই সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, এটি নতুন বাদুড়বাহিত ভাইরাস শনাক্তের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে বিস্তৃত নজরদারি কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরছে।


গবেষকরা পদ্মা নদী অববাহিকার ওই পাঁচ রোগীর আশপাশ থেকে ধরা পড়া বাদুড়ের শরীরেও জিনগতভাবে একই ধরনের পিআরভি শনাক্ত করেছেন। গবেষণার আরেক লেখক আরিফুল ইসলাম জানান, বাদুড় থেকে মানুষ ও গৃহপালিত পশুর মধ্যে এই ভাইরাস কীভাবে ছড়াচ্ছে এবং পদ্মা অববাহিকার জনপদগুলোতে বাদুড়বাহিত নতুন ভাইরাসগুলোর সামগ্রিক বাস্তুসংস্থান বোঝার চেষ্টা চলছে।


যেসব এলাকায় কাঁচা খেজুরের রস পান করা হয়, সেখানে শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিপাহ ও পিআরভিসহ অন্যান্য বাদুড়বাহিত ভাইরাস পরীক্ষার পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ