আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ এবং উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিসহ একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আজ শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই নির্বাচনী ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বলা হয়েছে, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনবে দলটি।
ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে পুনরায় মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি মেনে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারবেন না বলে বিধান করার কথা জানানো হয়েছে।
সংসদীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে বিএনপি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। সংসদের গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধিতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও এসেছে এই ইশতেহারে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রেক্ষাপটে বিএনপি অগণতান্ত্রিক সকল সংশোধনী বাতিল করে ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনে বিএনপি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাতে চায়। তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ সবার পরিচয় হবে এক—'আমরা বাংলাদেশি'। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন তুলে ধরেছে দলটি।
ইশতেহারে আরও জানানো হয়, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ এবং উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিসহ একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আজ শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই নির্বাচনী ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বলা হয়েছে, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনবে দলটি।
ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে পুনরায় মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি মেনে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারবেন না বলে বিধান করার কথা জানানো হয়েছে।
সংসদীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে বিএনপি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। সংসদের গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধিতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও এসেছে এই ইশতেহারে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রেক্ষাপটে বিএনপি অগণতান্ত্রিক সকল সংশোধনী বাতিল করে ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনে বিএনপি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাতে চায়। তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ সবার পরিচয় হবে এক—'আমরা বাংলাদেশি'। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন তুলে ধরেছে দলটি।
ইশতেহারে আরও জানানো হয়, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন