যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মাটির নিচে নির্মিত এক বিশাল ও অত্যাধুনিক মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাটি প্রকাশ্যে আনে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার মাঝেই তেহরানের এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের প্রতি একটি কঠোর সামরিক বার্তা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
রণকৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত ঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস বিভাগের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি। স্থাপনাটি পরিদর্শনের সময় আব্দুল রহমান মৌসাভি একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তাদের রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ইরানের অবস্থান এখন আর কেবল 'প্রতিরক্ষামূলক' নয়, বরং তারা 'আক্রমণাত্মক' রণনীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে যেকোনো উসকানির জবাবে শত্রুর ওপর দ্রুততম সময়ে বিশাল পরিসরে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে তেহরান।
অসম যুদ্ধ ও প্রযুক্তির সমন্বয় মাটির গভীরে সুরক্ষিত এই ঘাঁটিতে এমন সব অত্যাধুনিক মিসাইল মজুত করা হয়েছে যা প্রতিপক্ষের শক্তিশালী রাডার ও সামরিক কৌশলকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, তাঁরা বর্তমানে ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য হলো—প্রযুক্তিতে উন্নত শত্রুর আক্রমণকে কেবল প্রতিহত করা নয়, বরং তাদের অপ্রস্তুত করে পাল্টা আক্রমণ চালানো। পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জবাবেই এই ‘মিসাইল সিটির’ প্রদর্শনী করা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভুলবশত ইরানে কোনো হামলা চালায়, তবে তার প্রভাব কেবল ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও তাদের মিত্রদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসতে পারে। যদিও দুই দেশ বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের কথা বলছে, তবে তেহরানের এই শক্তি প্রদর্শন জানান দিচ্ছে যে আলোচনার টেবিলের আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতিও সমানতালে চলছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মাটির নিচে নির্মিত এক বিশাল ও অত্যাধুনিক মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাটি প্রকাশ্যে আনে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার মাঝেই তেহরানের এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের প্রতি একটি কঠোর সামরিক বার্তা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
রণকৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত ঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস বিভাগের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি। স্থাপনাটি পরিদর্শনের সময় আব্দুল রহমান মৌসাভি একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তাদের রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ইরানের অবস্থান এখন আর কেবল 'প্রতিরক্ষামূলক' নয়, বরং তারা 'আক্রমণাত্মক' রণনীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে যেকোনো উসকানির জবাবে শত্রুর ওপর দ্রুততম সময়ে বিশাল পরিসরে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে তেহরান।
অসম যুদ্ধ ও প্রযুক্তির সমন্বয় মাটির গভীরে সুরক্ষিত এই ঘাঁটিতে এমন সব অত্যাধুনিক মিসাইল মজুত করা হয়েছে যা প্রতিপক্ষের শক্তিশালী রাডার ও সামরিক কৌশলকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, তাঁরা বর্তমানে ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য হলো—প্রযুক্তিতে উন্নত শত্রুর আক্রমণকে কেবল প্রতিহত করা নয়, বরং তাদের অপ্রস্তুত করে পাল্টা আক্রমণ চালানো। পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জবাবেই এই ‘মিসাইল সিটির’ প্রদর্শনী করা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভুলবশত ইরানে কোনো হামলা চালায়, তবে তার প্রভাব কেবল ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও তাদের মিত্রদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসতে পারে। যদিও দুই দেশ বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের কথা বলছে, তবে তেহরানের এই শক্তি প্রদর্শন জানান দিচ্ছে যে আলোচনার টেবিলের আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতিও সমানতালে চলছে।

আপনার মতামত লিখুন