ঠান্ডা লড়াই পরবর্তী বিশ্ব নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির আজ আনুষ্ঠানিক অবসান হয়েছে। বুধবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে। এর ফলে অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের দুই প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ—যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে কতগুলো পরমাণু অস্ত্র থাকবে, তার ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা রইল না।
মস্কোর অনড় অবস্থান ও ওয়াশিংটনের নিরবতা রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ওয়ারহেডের সর্বোচ্চ সীমা আরও ১২ মাস বজায় রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি প্রস্তাব ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা ধরে নিচ্ছি যে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির পক্ষগুলো এই প্রেক্ষাপটে আর কোনো বাধ্যবাধকতা দিয়ে আবদ্ধ নয়।” ফলে মস্কো এখন থেকে তাদের কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে।
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির প্রেক্ষাপট ২০১০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই চুক্তিতে সই করেন। ২০১১ সালে কার্যকর হওয়া এই চুক্তিতে দু’পক্ষের মোতায়েন করা পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০ এবং ক্ষেপণান্ত্র ও বোমারু বিমানের সংখ্যা ৮০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত ছিল। ২০২১ সালে জো বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর এর মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিল। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই চুক্তির অধীনে পরিদর্শন ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘের ‘কবর’ সংকেত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তির অবসানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি ‘ভয়াবহ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বিশ্ব এমন এক অবস্থায় উপনীত হলো, যেখানে বিশ্বের ৯০ শতাংশ পরমাণু অস্ত্রের মালিকদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।” গুতেরেস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তিনি কালক্ষেপণ না করে মস্কো ও ওয়াশিংটনকে একটি ‘উত্তরাধিকার কাঠামো’ (Successor Framework) বা নতুন কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা বিশেষ করে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঠান্ডা লড়াই পরবর্তী বিশ্ব নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির আজ আনুষ্ঠানিক অবসান হয়েছে। বুধবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে। এর ফলে অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের দুই প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ—যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে কতগুলো পরমাণু অস্ত্র থাকবে, তার ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা রইল না।
মস্কোর অনড় অবস্থান ও ওয়াশিংটনের নিরবতা রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ওয়ারহেডের সর্বোচ্চ সীমা আরও ১২ মাস বজায় রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি প্রস্তাব ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা ধরে নিচ্ছি যে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির পক্ষগুলো এই প্রেক্ষাপটে আর কোনো বাধ্যবাধকতা দিয়ে আবদ্ধ নয়।” ফলে মস্কো এখন থেকে তাদের কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে।
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির প্রেক্ষাপট ২০১০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই চুক্তিতে সই করেন। ২০১১ সালে কার্যকর হওয়া এই চুক্তিতে দু’পক্ষের মোতায়েন করা পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০ এবং ক্ষেপণান্ত্র ও বোমারু বিমানের সংখ্যা ৮০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত ছিল। ২০২১ সালে জো বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর এর মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিল। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই চুক্তির অধীনে পরিদর্শন ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘের ‘কবর’ সংকেত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তির অবসানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি ‘ভয়াবহ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বিশ্ব এমন এক অবস্থায় উপনীত হলো, যেখানে বিশ্বের ৯০ শতাংশ পরমাণু অস্ত্রের মালিকদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।” গুতেরেস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তিনি কালক্ষেপণ না করে মস্কো ও ওয়াশিংটনকে একটি ‘উত্তরাধিকার কাঠামো’ (Successor Framework) বা নতুন কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা বিশেষ করে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

আপনার মতামত লিখুন