ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফেসবুক ও জিমেইলের ১৪৯ মিলিয়নের বেশি তথ্য ফাঁস: মহাবিপদে ব্যবহারকারীরা


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফেসবুক ও জিমেইলের ১৪৯ মিলিয়নের বেশি তথ্য ফাঁস: মহাবিপদে ব্যবহারকারীরা


বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে এক ভয়াবহ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুক, জিমেইল, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের ১৪৯ মিলিয়নেরও বেশি লগইন তথ্য একটি উন্মুক্ত অনলাইন ডাটাবেজে পাওয়া গেছে। প্রায় ৯৬ গিগাবাইট ওজনের এই বিশাল ডাটাবেজটি কোনো পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ছাড়াই ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ছিল, যা যে কেউ সহজেই অ্যাক্সেস করতে পারছিল।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমায়া ফাওলার এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি প্রথম শনাক্ত করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি গুগল বা মেটার সার্ভারে কোনো সরাসরি হ্যাক নয়। বরং ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে লুকিয়ে থাকা ইনফোস্টিলার নামক ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ম্যালওয়্যারটি মূলত ব্যবহারকারীর টাইপ করা পাসওয়ার্ড বা ব্রাউজারে সেভ করা লগইন ডিটেইলস চুরি করে হ্যাকারদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। সাধারণত ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট বা ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশনের মাধ্যমে এসব ম্যালওয়্যার ডিভাইসে ঢুকে পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইমেইল অ্যাকাউন্টের তথ্যই সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে। ফাঁস হওয়া তালিকার মধ্যে জিমেইল রয়েছে ৪৮ মিলিয়ন, ফেসবুক ১৭ মিলিয়ন, ইনস্টাগ্রাম ৬.৫ মিলিয়ন এবং টিকটক রয়েছে ৭.৮ লাখ। এছাড়াও নেটফ্লিক্স, ইয়াহু এবং আইক্লাউড মেইলের বিপুল তথ্য এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া মানে হ্যাকারদের হাতে ব্যবহারকারীর ডিজিটাল জীবনের চাবিকাঠি চলে যাওয়া। কারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড রিসেট করার লিংক মূলত ইমেইলেই পাঠানো হয়।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা ব্যবহারকারীদের দ্রুত সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সার্ভার সুরক্ষিত থাকলেও ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইস দুর্বল হলে এমন ঝুঁকি থেকেই যায় বলে তারা মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফেসবুক ও জিমেইলের ১৪৯ মিলিয়নের বেশি তথ্য ফাঁস: মহাবিপদে ব্যবহারকারীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে এক ভয়াবহ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুক, জিমেইল, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের ১৪৯ মিলিয়নেরও বেশি লগইন তথ্য একটি উন্মুক্ত অনলাইন ডাটাবেজে পাওয়া গেছে। প্রায় ৯৬ গিগাবাইট ওজনের এই বিশাল ডাটাবেজটি কোনো পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ছাড়াই ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ছিল, যা যে কেউ সহজেই অ্যাক্সেস করতে পারছিল।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমায়া ফাওলার এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি প্রথম শনাক্ত করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি গুগল বা মেটার সার্ভারে কোনো সরাসরি হ্যাক নয়। বরং ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে লুকিয়ে থাকা ইনফোস্টিলার নামক ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ম্যালওয়্যারটি মূলত ব্যবহারকারীর টাইপ করা পাসওয়ার্ড বা ব্রাউজারে সেভ করা লগইন ডিটেইলস চুরি করে হ্যাকারদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। সাধারণত ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট বা ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশনের মাধ্যমে এসব ম্যালওয়্যার ডিভাইসে ঢুকে পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইমেইল অ্যাকাউন্টের তথ্যই সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে। ফাঁস হওয়া তালিকার মধ্যে জিমেইল রয়েছে ৪৮ মিলিয়ন, ফেসবুক ১৭ মিলিয়ন, ইনস্টাগ্রাম ৬.৫ মিলিয়ন এবং টিকটক রয়েছে ৭.৮ লাখ। এছাড়াও নেটফ্লিক্স, ইয়াহু এবং আইক্লাউড মেইলের বিপুল তথ্য এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া মানে হ্যাকারদের হাতে ব্যবহারকারীর ডিজিটাল জীবনের চাবিকাঠি চলে যাওয়া। কারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড রিসেট করার লিংক মূলত ইমেইলেই পাঠানো হয়।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা ব্যবহারকারীদের দ্রুত সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সার্ভার সুরক্ষিত থাকলেও ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইস দুর্বল হলে এমন ঝুঁকি থেকেই যায় বলে তারা মন্তব্য করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ