উত্তরায় শিশু গৃহ কর্মী নির্যাতনের ঘটনায় বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথি সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
জানা গেছে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথির বিরুদ্ধে মোহনা (১১) নামের এক শিশুগৃহকর্মি কে দির্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতন করে আসছে, এ বিষয়ে ভিকটিম শিশুগৃহকর্মি মোহনার বাবা মো: মোস্তফা বাদি হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে
এ বিষয়ে মোহনার বাবা বলেন প্রায় সাত-আট মাস আগে উত্তরা নয় নম্বর সেক্টরে একটি বাসায় সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে বিথী ম্যাডামের কাছে গৃহকর্মী হিসেবে মোহনাকে কাজে দিয়েছিলেন, তিনি আরো বলেন প্রথম কয়েক মাস তিনি তার মেয়েকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক দেখেছেন
গত শনিবার ম্যাডাম বিথি তাকে ফোন করে বলেন তার মেয়েকে নিয়ে যেতে, ফোন পেয়ে মেয়েকে আনতে তিনি উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর এ ছুটে যান,
জানা যায়, উত্তরায় প্রভাবশালী বিমানের এমডি সফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী- বিথির বিরুদ্ধে মোহনা নামের ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় এজাহার দাখিল করেন ভুক্তভোগী মোহনার পিতা মোস্তফা।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। শিশু মোহনার পিতা জানান, বর্তমানে মোহনার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শিশু মোহনার বাবা বলেন, গত শনিবার ৩১শে জানুয়ারি মেয়েকে নিতে গেলে বিথি মেডাম তার সঙ্গে কোনো কথা না বলে একটি সাদা কাগজে সই করান। রাতের বেলায় মেয়েকে তার হাতে তুলে দিলে মেয়ের শরীরের অবস্থা দেখে তিনি হাঁও মাঁও করে কাঁদতে শুরু করেন। শিশুটির হাতে কাটা ও সেলাইয়ের দাগ, পুরো শরীরজুড়ে পোড়া চিহ্ন এবং মুখের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন।
বর্তমানে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারছে না। তার বাবা জানান, দুধ ও রুটি ভিজিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হচ্ছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে এটি শিশু আইন, ২০১৩ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মোস্তফা বলেন, “আমি একজন অসহায় বাবা। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আর যেন কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।”
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, শিশু মোহনার পিতা মোস্তফার বিথী ও তার স্বামী শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দাখিলের পর গতকাল রাতে থানায় মামলা রেকর্ড হয়।
রাত আনুমানিক ৩ টার সময় তারা অভিযান চালিয়ে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথীসহ তাদের আরো দুই জন কাজের মেয়েকে গ্রেফতার করে আদালত পাঠানো হয়েছে।
শফিকুর রহমান বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রুবেল মিয়া।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রফিক জানান, ভিক্টিমের চিকিৎসার জন্য ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
শিশু মোহনার নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার করার এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উত্তরায় শিশু গৃহ কর্মী নির্যাতনের ঘটনায় বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথি সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
জানা গেছে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথির বিরুদ্ধে মোহনা (১১) নামের এক শিশুগৃহকর্মি কে দির্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতন করে আসছে, এ বিষয়ে ভিকটিম শিশুগৃহকর্মি মোহনার বাবা মো: মোস্তফা বাদি হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে
এ বিষয়ে মোহনার বাবা বলেন প্রায় সাত-আট মাস আগে উত্তরা নয় নম্বর সেক্টরে একটি বাসায় সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে বিথী ম্যাডামের কাছে গৃহকর্মী হিসেবে মোহনাকে কাজে দিয়েছিলেন, তিনি আরো বলেন প্রথম কয়েক মাস তিনি তার মেয়েকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক দেখেছেন
গত শনিবার ম্যাডাম বিথি তাকে ফোন করে বলেন তার মেয়েকে নিয়ে যেতে, ফোন পেয়ে মেয়েকে আনতে তিনি উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর এ ছুটে যান,
জানা যায়, উত্তরায় প্রভাবশালী বিমানের এমডি সফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী- বিথির বিরুদ্ধে মোহনা নামের ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় এজাহার দাখিল করেন ভুক্তভোগী মোহনার পিতা মোস্তফা।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। শিশু মোহনার পিতা জানান, বর্তমানে মোহনার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শিশু মোহনার বাবা বলেন, গত শনিবার ৩১শে জানুয়ারি মেয়েকে নিতে গেলে বিথি মেডাম তার সঙ্গে কোনো কথা না বলে একটি সাদা কাগজে সই করান। রাতের বেলায় মেয়েকে তার হাতে তুলে দিলে মেয়ের শরীরের অবস্থা দেখে তিনি হাঁও মাঁও করে কাঁদতে শুরু করেন। শিশুটির হাতে কাটা ও সেলাইয়ের দাগ, পুরো শরীরজুড়ে পোড়া চিহ্ন এবং মুখের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন।
বর্তমানে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারছে না। তার বাবা জানান, দুধ ও রুটি ভিজিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হচ্ছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে এটি শিশু আইন, ২০১৩ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মোস্তফা বলেন, “আমি একজন অসহায় বাবা। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আর যেন কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।”
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, শিশু মোহনার পিতা মোস্তফার বিথী ও তার স্বামী শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দাখিলের পর গতকাল রাতে থানায় মামলা রেকর্ড হয়।
রাত আনুমানিক ৩ টার সময় তারা অভিযান চালিয়ে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথীসহ তাদের আরো দুই জন কাজের মেয়েকে গ্রেফতার করে আদালত পাঠানো হয়েছে।
শফিকুর রহমান বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রুবেল মিয়া।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রফিক জানান, ভিক্টিমের চিকিৎসার জন্য ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
শিশু মোহনার নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার করার এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন