ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার সাথে দিল্লীতে আনোয়ারুজ্জামানসহ আ.লীগের নেতাদের বৈঠক



শেখ হাসিনার সাথে  দিল্লীতে আনোয়ারুজ্জামানসহ আ.লীগের নেতাদের  বৈঠক
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: সংগৃহীত)

গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল নেতা।

যুক্তরাজ্য থেকে আসা পাঁচ নেতা ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন — যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। ভারত সফর শেষে ২৬ জানুয়ারি তারা লন্ডনে ফিরে যান।

সাক্ষাৎকারে উপস্থিত এক নেতা বলেন, "কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোবাইল ফোনসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর নিরাপত্তা যাচাই শেষে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে তাঁর বসবাসরত বাড়িতে নেওয়া হয়।"

তিনি আরও জানান, "আমরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা শেখ হাসিনার সঙ্গে অবস্থান করেছি। পুরো সময়টা তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তাকে দেখে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা লক্ষ্য করা যায়নি, তবে ওজন কিছুটা কমেছে।"

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা আরও বলেন, "ভারত সরকার দিল্লিতে সুসজ্জিত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বিশাল প্রাসাদে শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে রেখেছে। সেখানে সেবা ও সহায়তার জন্য বহুজন কাজ করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহু স্তরে বিস্তৃত। এছাড়া তার ছোট বোন শেখ রেহানা লন্ডন থেকে কিছু সময়ের জন্য সেখানে এসে তার সঙ্গে থাকেন।"

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি পাঠিয়েছেন এবং অনলাইনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলনে তার রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য শোনানো হয়। তবে এখনও পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, ভিডিও কল বা অনলাইনে দেখা যায়নি।

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, "আমার মা ইতিমধ্যেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান এবং অবসর নিতে চান।"

গণ–অভ্যুত্থানের আগে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৫ বছরের বেশি সময় দেশের শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে, যার ফলে প্রায় এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়।

অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তার বিচার চলছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কাছে তাকে হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেছে। তবে ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শেখ হাসিনার সাথে দিল্লীতে আনোয়ারুজ্জামানসহ আ.লীগের নেতাদের বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল নেতা।

যুক্তরাজ্য থেকে আসা পাঁচ নেতা ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন — যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। ভারত সফর শেষে ২৬ জানুয়ারি তারা লন্ডনে ফিরে যান।

সাক্ষাৎকারে উপস্থিত এক নেতা বলেন, "কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোবাইল ফোনসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর নিরাপত্তা যাচাই শেষে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে তাঁর বসবাসরত বাড়িতে নেওয়া হয়।"

তিনি আরও জানান, "আমরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা শেখ হাসিনার সঙ্গে অবস্থান করেছি। পুরো সময়টা তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তাকে দেখে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা লক্ষ্য করা যায়নি, তবে ওজন কিছুটা কমেছে।"

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা আরও বলেন, "ভারত সরকার দিল্লিতে সুসজ্জিত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বিশাল প্রাসাদে শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে রেখেছে। সেখানে সেবা ও সহায়তার জন্য বহুজন কাজ করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহু স্তরে বিস্তৃত। এছাড়া তার ছোট বোন শেখ রেহানা লন্ডন থেকে কিছু সময়ের জন্য সেখানে এসে তার সঙ্গে থাকেন।"

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি পাঠিয়েছেন এবং অনলাইনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলনে তার রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য শোনানো হয়। তবে এখনও পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, ভিডিও কল বা অনলাইনে দেখা যায়নি।

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, "আমার মা ইতিমধ্যেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান এবং অবসর নিতে চান।"

গণ–অভ্যুত্থানের আগে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৫ বছরের বেশি সময় দেশের শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে, যার ফলে প্রায় এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়।

অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তার বিচার চলছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কাছে তাকে হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেছে। তবে ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ