ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

কলা বাঁকা হয় কেন?


মাসুদ রানা :
মাসুদ রানা :
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

কলা বাঁকা হয় কেন?

কলা আমাদের নিত্যদিনের পরিচিত ফল। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সব বয়সের মানুষের খাদ্যতালিকায় কলা জায়গা করে নিয়েছে। তবু একটি প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই আসেকলা কেন প্রায় সব সময় বাঁকা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গেলে আমাদের যেতে হবে উদ্ভিদবিজ্ঞানের গভীরে। সাথে জেনে নিবো প্রচলিত কুসংস্কার, আধুনিক পুষ্টিবিদ্যার বিশ্লেষণ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ।

- কলার মোচা

 

কলা বাঁকা হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ :

কলা বাঁকা হওয়ার পেছনে কোনো জাদু বা ত্রুটি নেই; এর পেছনে রয়েছে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। কলার কাঁদি গাছ থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে। শুরুতে কলার ফল মাধ্যাকর্ষণের টানে নিচের দিকেই বাড়ে। কিন্তু কিছুদিন পর ফলগুলো সূর্যের আলো পাওয়ার জন্য উপরের দিকে মুখ করে বাড়তে শুরু করে।

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয়,

গ্র্যাভিট্রপিজম (Gravitropism): মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি।

ফোটোট্রপিজম (Phototropism): আলোর দিকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি।

নিচের দিকে ঝুলে থাকা অবস্থান এবং পরে আলোর দিকে উঠে আসার চেষ্টাএই দুই প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফলই হলো কলার পরিচিত বাঁক। অর্থাৎ, কলার বাঁকা আকৃতি প্রকৃতির একেবারে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্য।

- পরিপুষ্ট কলার কাঁদি

 

সোজা কলার অস্তিত্ব :

অনেকেরই ধারণা, কলা মানেই বাঁকা। বাস্তবে কিছু জাতের কলা তুলনামূলকভাবে সোজা বা কম বাঁকা হয়ে থাকে।

বিশেষ করে

রেড বানানা (Red Banana)।

কিছু হাইব্রিড কাভেন্ডিশ জাত।

প্ল্যান্টেইন শ্রেণির কলা।

এই কলাগুলো সাধারণত বেশি মোটা, কিছুটা কম বাঁকা এবং কখনো কখনো প্রায় সোজা দেখায়। এর কারণ জিনগত বৈশিষ্ট্য চাষের পরিবেশ।

স্বাদ পুষ্টিগুণের দিক থেকে সোজা বাঁকা কলার মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য নেই। কিছু সোজা কলা তুলনামূলক কম মিষ্টি এবং আঁশে সামান্য বেশি হতে পারে।

- বাঁজা আকৃতির কলা

 

কলার পুষ্টিগুণ:

কলা শুধু সহজলভ্য বলেই জনপ্রিয় নয়, এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী পুষ্টিগুণ।

একটি মাঝারি আকারের কলায় সাধারণত থাকে-

পটাশিয়াম: হৃদযন্ত্র রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ভিটামিন বি-: মস্তিষ্ক স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়ায়

খাদ্যআঁশ (ফাইবার): হজম ভালো রাখে কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

প্রাকৃতিক শর্করা: দ্রুত শক্তি জোগায়

ম্যাগনেশিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: শরীরের ক্লান্তি কমায়

এই কারণেই খেলোয়াড়, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অসুস্থতা-পরবর্তী রোগীদের খাদ্যতালিকায় কলা প্রায় অপরিহার্য।

 

- ডায়েটে কলা

ডায়েটে কলার ভূমিকা :

ডায়েট বা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কলা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কলা খেলেই ওজন বেড়ে যায়। বাস্তবে সঠিক সময়ে পরিমাণে কলা খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।


পুষ্টিবিদদের মতে-

কলার ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে

অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়

মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ হ্রাস করে

ডায়েটে কলা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকাল, ব্যায়ামের আগে বা পরে। দই, ওটস বা বাদামের সঙ্গে কলা খেলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে।

 

কখন ও কার জন্য কলা খাওয়া ক্ষতিকর : 

যদিও কলা স্বাস্থ্যকর ফল, তবু কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় অতিরিক্ত কলা খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগী: দিনে ১টির বেশি কলা না খাওয়াই ভালো

কিডনি রোগী: বেশি পটাশিয়াম শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

গ্যাস, IBS বা হজমজনিত সমস্যা: রাতে কলা খেলে সমস্যা বাড়তে পারে

চিকিৎসকদের সাধারণ পরামর্শ হলোএকজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে থেকে ২টি কলা নিরাপদে খেতে পারেন।

 

রাতে কলা খাওয়া নিয়ে কুসংস্কার:

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছেরাতে কলা খেলে ঠান্ডা লাগে বা কাশি হয়।

বৈজ্ঞানিকভাবে কলা কোনো ঠান্ডা খাবার নয়। তবে রাতে হজমশক্তি স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। কারণে

কারও কারও ক্ষেত্রে শ্লেষ্মা বাড়তে পারে

সর্দি-কাশি বা হাঁপানির রোগীদের সমস্যা অনুভূত হতে পারে

অর্থাৎ, এটি সবার জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং ব্যক্তিভেদে প্রভাব ভিন্ন।

 

কোন সময় কলা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী

সকাল: শক্তি জোগায় হজমে সহায়তা করে

ব্যায়ামের আগে: দ্রুত এনার্জি দেয়

ব্যায়ামের পরে: পেশি পুনর্গঠনে সহায়ক

রাতে: সংবেদনশীল বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এড়িয়ে চলাই ভালো

 

কলা নিয়ে কিছু চমকপ্রদ তথ্য :

কলা উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় ফল নয়, এক ধরনের বেরি

কলাগাছ আসলে গাছ নয়, ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফলগুলোর একটি হলো কলা

কলার খোসা সার, ত্বকের যত্ন ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত হয়

  

কলা বাঁকা হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়; এটি প্রকৃতির নিয়মে গড়া এক নিখুঁত নকশা। সঠিক জ্ঞান ছাড়া কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে, পরিমিত সময়মতো কলা খেলে এটি হতে পারে সুস্থ জীবনের সহজ সহচর। বাঁকা হোক বা সোজাকলার আসল শক্তি তার পুষ্টিগুণেই।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কলা বাঁকা হয় কেন?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

কলা আমাদের নিত্যদিনের পরিচিত ফল। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সব বয়সের মানুষের খাদ্যতালিকায় কলা জায়গা করে নিয়েছে। তবু একটি প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই আসেকলা কেন প্রায় সব সময় বাঁকা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গেলে আমাদের যেতে হবে উদ্ভিদবিজ্ঞানের গভীরে। সাথে জেনে নিবো প্রচলিত কুসংস্কার, আধুনিক পুষ্টিবিদ্যার বিশ্লেষণ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ।

- কলার মোচা

 

কলা বাঁকা হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ :

কলা বাঁকা হওয়ার পেছনে কোনো জাদু বা ত্রুটি নেই; এর পেছনে রয়েছে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। কলার কাঁদি গাছ থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে। শুরুতে কলার ফল মাধ্যাকর্ষণের টানে নিচের দিকেই বাড়ে। কিন্তু কিছুদিন পর ফলগুলো সূর্যের আলো পাওয়ার জন্য উপরের দিকে মুখ করে বাড়তে শুরু করে।

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয়,

গ্র্যাভিট্রপিজম (Gravitropism): মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি।

ফোটোট্রপিজম (Phototropism): আলোর দিকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি।

নিচের দিকে ঝুলে থাকা অবস্থান এবং পরে আলোর দিকে উঠে আসার চেষ্টাএই দুই প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফলই হলো কলার পরিচিত বাঁক। অর্থাৎ, কলার বাঁকা আকৃতি প্রকৃতির একেবারে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্য।

- পরিপুষ্ট কলার কাঁদি

 

সোজা কলার অস্তিত্ব :

অনেকেরই ধারণা, কলা মানেই বাঁকা। বাস্তবে কিছু জাতের কলা তুলনামূলকভাবে সোজা বা কম বাঁকা হয়ে থাকে।

বিশেষ করে

রেড বানানা (Red Banana)।

কিছু হাইব্রিড কাভেন্ডিশ জাত।

প্ল্যান্টেইন শ্রেণির কলা।

এই কলাগুলো সাধারণত বেশি মোটা, কিছুটা কম বাঁকা এবং কখনো কখনো প্রায় সোজা দেখায়। এর কারণ জিনগত বৈশিষ্ট্য চাষের পরিবেশ।

স্বাদ পুষ্টিগুণের দিক থেকে সোজা বাঁকা কলার মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য নেই। কিছু সোজা কলা তুলনামূলক কম মিষ্টি এবং আঁশে সামান্য বেশি হতে পারে।

- বাঁজা আকৃতির কলা

 

কলার পুষ্টিগুণ:

কলা শুধু সহজলভ্য বলেই জনপ্রিয় নয়, এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী পুষ্টিগুণ।

একটি মাঝারি আকারের কলায় সাধারণত থাকে-

পটাশিয়াম: হৃদযন্ত্র রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ভিটামিন বি-: মস্তিষ্ক স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়ায়

খাদ্যআঁশ (ফাইবার): হজম ভালো রাখে কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

প্রাকৃতিক শর্করা: দ্রুত শক্তি জোগায়

ম্যাগনেশিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: শরীরের ক্লান্তি কমায়

এই কারণেই খেলোয়াড়, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অসুস্থতা-পরবর্তী রোগীদের খাদ্যতালিকায় কলা প্রায় অপরিহার্য।

 

- ডায়েটে কলা

ডায়েটে কলার ভূমিকা :

ডায়েট বা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কলা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কলা খেলেই ওজন বেড়ে যায়। বাস্তবে সঠিক সময়ে পরিমাণে কলা খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।


পুষ্টিবিদদের মতে-

কলার ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে

অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়

মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ হ্রাস করে

ডায়েটে কলা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকাল, ব্যায়ামের আগে বা পরে। দই, ওটস বা বাদামের সঙ্গে কলা খেলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে।

 

কখন ও কার জন্য কলা খাওয়া ক্ষতিকর : 

যদিও কলা স্বাস্থ্যকর ফল, তবু কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় অতিরিক্ত কলা খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগী: দিনে ১টির বেশি কলা না খাওয়াই ভালো

কিডনি রোগী: বেশি পটাশিয়াম শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

গ্যাস, IBS বা হজমজনিত সমস্যা: রাতে কলা খেলে সমস্যা বাড়তে পারে

চিকিৎসকদের সাধারণ পরামর্শ হলোএকজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে থেকে ২টি কলা নিরাপদে খেতে পারেন।

 

রাতে কলা খাওয়া নিয়ে কুসংস্কার:

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছেরাতে কলা খেলে ঠান্ডা লাগে বা কাশি হয়।

বৈজ্ঞানিকভাবে কলা কোনো ঠান্ডা খাবার নয়। তবে রাতে হজমশক্তি স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। কারণে

কারও কারও ক্ষেত্রে শ্লেষ্মা বাড়তে পারে

সর্দি-কাশি বা হাঁপানির রোগীদের সমস্যা অনুভূত হতে পারে

অর্থাৎ, এটি সবার জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং ব্যক্তিভেদে প্রভাব ভিন্ন।

 

কোন সময় কলা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী

সকাল: শক্তি জোগায় হজমে সহায়তা করে

ব্যায়ামের আগে: দ্রুত এনার্জি দেয়

ব্যায়ামের পরে: পেশি পুনর্গঠনে সহায়ক

রাতে: সংবেদনশীল বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এড়িয়ে চলাই ভালো

 

কলা নিয়ে কিছু চমকপ্রদ তথ্য :

কলা উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় ফল নয়, এক ধরনের বেরি

কলাগাছ আসলে গাছ নয়, ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফলগুলোর একটি হলো কলা

কলার খোসা সার, ত্বকের যত্ন ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত হয়

  

কলা বাঁকা হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়; এটি প্রকৃতির নিয়মে গড়া এক নিখুঁত নকশা। সঠিক জ্ঞান ছাড়া কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে, পরিমিত সময়মতো কলা খেলে এটি হতে পারে সুস্থ জীবনের সহজ সহচর। বাঁকা হোক বা সোজাকলার আসল শক্তি তার পুষ্টিগুণেই।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ