ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ: প্রতারণার ফাঁদ


প্রণয় কুমার সিংহ (রাহুল)
প্রণয় কুমার সিংহ (রাহুল)
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ: প্রতারণার ফাঁদ
সংগৃহীত

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিকদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ২০২৬ সালে এসেও একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ বেতনের প্রলোভন এবং ভালো চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে কৌশলে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

ইউক্রেন–রাশিয়া চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি অংশকে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠিয়ে যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ানোর ঘটনায় দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু দালাল ও মানবপাচার চক্র উচ্চ বেতনের চাকরি, নির্মাণকাজ কিংবা নিরাপদ শ্রমের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের রাশিয়ায় পাঠায়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর অনেক শ্রমিকের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাদের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক সহায়ক কাজ বা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এসব শ্রমিকের অনেকেই যুদ্ধ প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন এবং পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাঠানো হয়। ফলে কেউ কেউ গোলাবর্ষণ ও হামলার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও পরিবারগুলো দাবি করছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দালাল ও মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পাশাপাশি রাশিয়া ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও শ্রম অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত করা আধুনিক দাসত্বের শামিল। তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মানবপাচার চক্র দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের টার্গেট করছে। ফলে বিদেশে কাজের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈধ চ্যানেল শক্তিশালী করা এবং দালাল দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি শ্রমিক একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার ও আইনি পদক্ষেপ: বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং সরকার এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে প্রতারিত বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

সতর্কতা: জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার নাগরিকদের সতর্ক করছে যাতে তারা নিশ্চিত না হয়ে কোনো দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় না যান।

এই সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত আপডেট পেতে এবং কোনো নাগরিক নিখোঁজ থাকলে তথ্য জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসরণ করা যেতে পারে। এছাড়া বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধতা যাচাই করতে BMET-এর অফিশিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ: প্রতারণার ফাঁদ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিকদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ২০২৬ সালে এসেও একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ বেতনের প্রলোভন এবং ভালো চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে কৌশলে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

ইউক্রেন–রাশিয়া চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি অংশকে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠিয়ে যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ানোর ঘটনায় দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু দালাল ও মানবপাচার চক্র উচ্চ বেতনের চাকরি, নির্মাণকাজ কিংবা নিরাপদ শ্রমের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের রাশিয়ায় পাঠায়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর অনেক শ্রমিকের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাদের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক সহায়ক কাজ বা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এসব শ্রমিকের অনেকেই যুদ্ধ প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন এবং পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাঠানো হয়। ফলে কেউ কেউ গোলাবর্ষণ ও হামলার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও পরিবারগুলো দাবি করছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দালাল ও মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পাশাপাশি রাশিয়া ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও শ্রম অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত করা আধুনিক দাসত্বের শামিল। তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মানবপাচার চক্র দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের টার্গেট করছে। ফলে বিদেশে কাজের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈধ চ্যানেল শক্তিশালী করা এবং দালাল দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি শ্রমিক একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার ও আইনি পদক্ষেপ: বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং সরকার এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে প্রতারিত বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

সতর্কতা: জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার নাগরিকদের সতর্ক করছে যাতে তারা নিশ্চিত না হয়ে কোনো দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় না যান।

এই সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত আপডেট পেতে এবং কোনো নাগরিক নিখোঁজ থাকলে তথ্য জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসরণ করা যেতে পারে। এছাড়া বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধতা যাচাই করতে BMET-এর অফিশিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ