ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আল-মালিকি ইস্যুতে ইরাককে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

আল-মালিকি ইস্যুতে ইরাককে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র


ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরী আল-মালিকিকে আবারও সরকারপ্রধান করার বিষয়ে দেশটির পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোটের সমর্থনের পর ওয়াশিংটন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, মালিকির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ইরাকের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরাকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি ওয়াশিংটনের অবস্থান ও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট করেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নূরী আল-মালিকি ইরানঘনিষ্ঠ রাজনীতিক। এর আগেও ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছিল। তবে বর্তমানে শিয়া জোটের সমর্থন পাওয়ায় তার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

টেলিফোনালাপে মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ইরাকি সরকার দেখতে চায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ইরান দ্বারা প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো সরকার ইরাকের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারবে না এবং আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দেশটিকে দূরে রাখাও সম্ভব হবে না।

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার পারস্পরিক উপকারী অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে ইরানপন্থী সরকার গঠিত হলে তা তেহরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনতে পারে। বর্তমানে ইরান অভ্যন্তরীণ আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হাজার হাজার নাগরিককে হত্যা করেছে—এমন অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে উঠেছে।

একজন ইরাকি রাজনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মালিকি নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে মার্কিন প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ইরাকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তী সরকারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যা তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে ইরাকের তেল রপ্তানির রাজস্ব নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা থাকায় দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, ইরাক যেন ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান রোধ করে।

২০২২ সালে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি এসব গোষ্ঠীর সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সংযত কৌশল গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন করেছেন বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য, নূরী আল-মালিকি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেই প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন এবং সে সময় আল-কায়েদা ও অন্যান্য সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার শাসনামলকে অতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, যা ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পথ প্রশস্ত করেছে বলে ওয়াশিংটনের বিশ্বাস।

এদিকে ইরাকের সংসদ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য বৈঠকে বসবে। এই প্রেসিডেন্ট মূলত আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আল-মালিকি ইস্যুতে ইরাককে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরী আল-মালিকিকে আবারও সরকারপ্রধান করার বিষয়ে দেশটির পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোটের সমর্থনের পর ওয়াশিংটন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, মালিকির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ইরাকের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরাকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি ওয়াশিংটনের অবস্থান ও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট করেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নূরী আল-মালিকি ইরানঘনিষ্ঠ রাজনীতিক। এর আগেও ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছিল। তবে বর্তমানে শিয়া জোটের সমর্থন পাওয়ায় তার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

টেলিফোনালাপে মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ইরাকি সরকার দেখতে চায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ইরান দ্বারা প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো সরকার ইরাকের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারবে না এবং আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দেশটিকে দূরে রাখাও সম্ভব হবে না।

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার পারস্পরিক উপকারী অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে ইরানপন্থী সরকার গঠিত হলে তা তেহরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনতে পারে। বর্তমানে ইরান অভ্যন্তরীণ আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হাজার হাজার নাগরিককে হত্যা করেছে—এমন অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে উঠেছে।

একজন ইরাকি রাজনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মালিকি নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে মার্কিন প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ইরাকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তী সরকারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যা তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে ইরাকের তেল রপ্তানির রাজস্ব নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা থাকায় দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, ইরাক যেন ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান রোধ করে।

২০২২ সালে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি এসব গোষ্ঠীর সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সংযত কৌশল গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন করেছেন বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য, নূরী আল-মালিকি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেই প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন এবং সে সময় আল-কায়েদা ও অন্যান্য সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার শাসনামলকে অতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, যা ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পথ প্রশস্ত করেছে বলে ওয়াশিংটনের বিশ্বাস।

এদিকে ইরাকের সংসদ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য বৈঠকে বসবে। এই প্রেসিডেন্ট মূলত আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ