তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। গত শনিবার তুরস্কের আয়দিন শহরে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন যে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমাদ শারাআর দৃঢ় নেতৃত্বে দেশটি দীর্ঘ ১৪ বছরের সংঘাত কাটিয়ে দ্রুত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরদোগান মনে করেন সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের জালিম শাসনের পতনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে জুলুমের অবসান ঘটেছে এবং তুরস্কের প্রতিবেশী দেশটিতে এখন একটি ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এরদোগান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে গত ১৩ বছর ধরে সিরিয়ার মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তুরস্ককে অনেক অপবাদ এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। অনেকেই বলেছিল যে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে কিংবা একঘরে হয়ে পড়ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে তুরস্ক ইতিহাসের সঠিক পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। তিনি জানান যে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনে কুর্দি এবং তুর্কমেনসহ সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে যা নতুন সিরিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলছে।
সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিষয়ে এরদোগান বলেন যে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে তাদের দখল করা এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে এবং দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াই আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। সিরিয়ার উত্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের হুমকি পুরোপুরি দূর হলে কেবল সিরিয়া নয় বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সিরিয়ার এই পরিবর্তনকে আঞ্চলিক কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে এরদোগান ইসলামি ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা উসকানি ও ফেতনার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন যে জাতিগত পরিচয় বা মাজহাবকে কেন্দ্র করে মেরুকরণ কেবল বিষাদ ও অশ্রুই বয়ে আনে। তাই আরব, তুর্কমেন, কুর্দি, খ্রিস্টানসহ সিরিয়ার সকল নাগরিককে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও নিরাপদ সিরিয়া গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। গত শনিবার তুরস্কের আয়দিন শহরে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন যে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমাদ শারাআর দৃঢ় নেতৃত্বে দেশটি দীর্ঘ ১৪ বছরের সংঘাত কাটিয়ে দ্রুত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরদোগান মনে করেন সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের জালিম শাসনের পতনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে জুলুমের অবসান ঘটেছে এবং তুরস্কের প্রতিবেশী দেশটিতে এখন একটি ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এরদোগান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে গত ১৩ বছর ধরে সিরিয়ার মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তুরস্ককে অনেক অপবাদ এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। অনেকেই বলেছিল যে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে কিংবা একঘরে হয়ে পড়ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে তুরস্ক ইতিহাসের সঠিক পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। তিনি জানান যে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনে কুর্দি এবং তুর্কমেনসহ সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে যা নতুন সিরিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলছে।
সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিষয়ে এরদোগান বলেন যে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে তাদের দখল করা এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে এবং দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াই আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। সিরিয়ার উত্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের হুমকি পুরোপুরি দূর হলে কেবল সিরিয়া নয় বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সিরিয়ার এই পরিবর্তনকে আঞ্চলিক কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে এরদোগান ইসলামি ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা উসকানি ও ফেতনার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন যে জাতিগত পরিচয় বা মাজহাবকে কেন্দ্র করে মেরুকরণ কেবল বিষাদ ও অশ্রুই বয়ে আনে। তাই আরব, তুর্কমেন, কুর্দি, খ্রিস্টানসহ সিরিয়ার সকল নাগরিককে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও নিরাপদ সিরিয়া গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন