ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের অগ্রাধিকার বা পছন্দের তালিকায় নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস রুফো। গতকাল রবিবার আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। রুফো বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার মূল দায়িত্ব ইরানি জনগণেরই, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের সম্ভাব্য সব উপায়ে সমর্থন দেওয়া।
ফরাসি মন্ত্রী জানান যে ইরানি সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানের প্রায় ৯ কোটির বেশি মানুষ কার্যত বহির্জগত থেকে বিচ্ছিন্ন। দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ এই ব্ল্যাকআউট বা ইন্টারনেট শাটডাউন আরোপ করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই ইন্টারনেট অন্ধকারের সুযোগে বিক্ষোভকারীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, যাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক একটি এনজিও ধারণা করছে যে নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অ্যালিস রুফো তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ইরানি জনগণ তাদের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার কেবল সে দেশের মানুষেরই। অন্য কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে ইরানের নেতা নির্বাচন করা বা জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করা কাম্য নয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন। বৈশ্বিক এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি বর্তমানে একটি বৃহৎ গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পরবর্তী ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দাবি করছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের অগ্রাধিকার বা পছন্দের তালিকায় নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস রুফো। গতকাল রবিবার আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। রুফো বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার মূল দায়িত্ব ইরানি জনগণেরই, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের সম্ভাব্য সব উপায়ে সমর্থন দেওয়া।
ফরাসি মন্ত্রী জানান যে ইরানি সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানের প্রায় ৯ কোটির বেশি মানুষ কার্যত বহির্জগত থেকে বিচ্ছিন্ন। দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ এই ব্ল্যাকআউট বা ইন্টারনেট শাটডাউন আরোপ করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই ইন্টারনেট অন্ধকারের সুযোগে বিক্ষোভকারীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, যাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক একটি এনজিও ধারণা করছে যে নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অ্যালিস রুফো তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ইরানি জনগণ তাদের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার কেবল সে দেশের মানুষেরই। অন্য কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে ইরানের নেতা নির্বাচন করা বা জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করা কাম্য নয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন। বৈশ্বিক এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি বর্তমানে একটি বৃহৎ গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পরবর্তী ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দাবি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন