রংপুর নগরীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে চারজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন। গত রবিবার বিকেলে নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায় যে রাধাবল্লভ এলাকার দোকানদার রেজাউল ইসলাম দোকান পরিষ্কার করার সময় কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে তার বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধর করা হলে তার মাথা ফেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের দুইজন কর্মী এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ছাত্রশিবির নেতা মোহাম্মদ আতিক জানান যে স্থানীয় এক দোকানদারের সঙ্গে কয়েকজন ছাত্রের সংঘাত হয়েছে এবং এতে তাদের কর্মীরা আহত হয়েছেন। তবে তিনি এটিকে রাজনৈতিক কোনো সংঘর্ষ হিসেবে মানতে নারাজ। সংঘর্ষের পর বিকেলে রাধাবল্লভ প্রাইমারি স্কুলের সামনে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শিবিরের কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের লাঞ্ছিত করে।
এই হামলায় আহত ও লাঞ্ছিত চার সাংবাদিক হলেন দীপ্ত টিভির রংপুর প্রতিনিধি ফেরদৌস জয়, দেশ নিউজ বিডির বিশেষ প্রতিবেদক মেহেদি হাসান, চ্যানেল ওয়ানের চিত্র সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম মুকুল এবং একাত্তর টেলিভিশনের রংপুর সদর প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন সুমন। হামলার প্রতিবাদে রংপুরের কর্মরত সাংবাদিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা অভিযোগ করেন যে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আন্দোলনরত সাংবাদিকেরা এ সময় তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল রাজনৈতিক দলকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। এই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য জানতে ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সভাপতি নুরুল হুদাকে একাধিকবার কল করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
রংপুর নগরীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে চারজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন। গত রবিবার বিকেলে নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায় যে রাধাবল্লভ এলাকার দোকানদার রেজাউল ইসলাম দোকান পরিষ্কার করার সময় কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে তার বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধর করা হলে তার মাথা ফেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের দুইজন কর্মী এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ছাত্রশিবির নেতা মোহাম্মদ আতিক জানান যে স্থানীয় এক দোকানদারের সঙ্গে কয়েকজন ছাত্রের সংঘাত হয়েছে এবং এতে তাদের কর্মীরা আহত হয়েছেন। তবে তিনি এটিকে রাজনৈতিক কোনো সংঘর্ষ হিসেবে মানতে নারাজ। সংঘর্ষের পর বিকেলে রাধাবল্লভ প্রাইমারি স্কুলের সামনে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শিবিরের কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের লাঞ্ছিত করে।
এই হামলায় আহত ও লাঞ্ছিত চার সাংবাদিক হলেন দীপ্ত টিভির রংপুর প্রতিনিধি ফেরদৌস জয়, দেশ নিউজ বিডির বিশেষ প্রতিবেদক মেহেদি হাসান, চ্যানেল ওয়ানের চিত্র সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম মুকুল এবং একাত্তর টেলিভিশনের রংপুর সদর প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন সুমন। হামলার প্রতিবাদে রংপুরের কর্মরত সাংবাদিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা অভিযোগ করেন যে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আন্দোলনরত সাংবাদিকেরা এ সময় তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল রাজনৈতিক দলকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। এই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য জানতে ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সভাপতি নুরুল হুদাকে একাধিকবার কল করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন