বাংলাদের পাহাড়ি জনজীবন আজও হারিয়েছে অনেক মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, তবু শিহরণ জাগায় তাদের সংগ্রামের গল্প,চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ের কোলে থাকা ছোট ছোট গ্রামগুলোতে বসবাস করে বহু পাহাড়ি সম্প্রদায়।
তারা মূলত চাকমা, মারমা, ম্রো ও পাহাড়ি বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী। প্রকৃতির কোলে থাকা এই জনপদগুলোয় জীবনযাত্রা সহজ নয়। বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা—এই মৌলিক সুবিধার অভাব তাদের প্রতিদিনের জীবনকে কঠিন করে তোলে।
স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা এখনও শোচনীয়। “আমাদের স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা কম, বই কম, অনেক সময় বিদ্যুৎ নেই। তাই অনেক ছেলে-মেয়ে শহরে পড়াশোনা করতে আসে, কিন্তু ফিরতে চায় না,” বলেন মারমা সম্প্রদায়ের শিক্ষক লামচি মারমা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আরও অবনতি। দুর্গম গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, কিন্তু ডাক্তার ও ওষুধের ঘাটতি শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
তাছাড়া, পাহাড়ি কৃষকরা পানির অভাবে হারে হারে ফসল নষ্ট হচ্ছে। চা, ধান, শাক-সবজির পাশাপাশি ছোট ছোট ফলের চাষ হলেও বাজারজাতকরণের সুযোগ কম। তবুও, এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা থেমে নেই।
স্থানীয় এনজিও ও সরকারি প্রকল্প তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক সাহায্যে নিয়োজিত। “আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করে শহরের মতো সুযোগ পাবে, আবার নিজেদের পাহাড়কে ভালোবাসবে,” বলেন চাকমা সম্প্রদায়ের শিক্ষিত যুবক লালন চাকমা।
সম্প্রতি পাহাড়ি জনপদে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নের বিভিন্ন সমসাময়িক প্রকল্প শুরু হয়েছে। এটি পাহাড়িদের জীবনের মান উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। তবে উন্নয়নের ধারা এখনও অনিয়মিত, অনেক গ্রামে এখনো জীবনমানের মৌলিক চ্যালেঞ্জ টিকে আছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদ আমাদের দেশকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং মানুষের সংগ্রাম একসাথে বাঁচে। যদি নীতি নির্ধারকরা ও সমাজের সবাই একযোগে কাজ করে, তবে এই পাহাড়িদের জীবন হতে পারে আরও স্বপ্নময়, আরও সমৃদ্ধ।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদের পাহাড়ি জনজীবন আজও হারিয়েছে অনেক মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, তবু শিহরণ জাগায় তাদের সংগ্রামের গল্প,চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ের কোলে থাকা ছোট ছোট গ্রামগুলোতে বসবাস করে বহু পাহাড়ি সম্প্রদায়।
তারা মূলত চাকমা, মারমা, ম্রো ও পাহাড়ি বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী। প্রকৃতির কোলে থাকা এই জনপদগুলোয় জীবনযাত্রা সহজ নয়। বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা—এই মৌলিক সুবিধার অভাব তাদের প্রতিদিনের জীবনকে কঠিন করে তোলে।
স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা এখনও শোচনীয়। “আমাদের স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা কম, বই কম, অনেক সময় বিদ্যুৎ নেই। তাই অনেক ছেলে-মেয়ে শহরে পড়াশোনা করতে আসে, কিন্তু ফিরতে চায় না,” বলেন মারমা সম্প্রদায়ের শিক্ষক লামচি মারমা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আরও অবনতি। দুর্গম গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, কিন্তু ডাক্তার ও ওষুধের ঘাটতি শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
তাছাড়া, পাহাড়ি কৃষকরা পানির অভাবে হারে হারে ফসল নষ্ট হচ্ছে। চা, ধান, শাক-সবজির পাশাপাশি ছোট ছোট ফলের চাষ হলেও বাজারজাতকরণের সুযোগ কম। তবুও, এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা থেমে নেই।
স্থানীয় এনজিও ও সরকারি প্রকল্প তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক সাহায্যে নিয়োজিত। “আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করে শহরের মতো সুযোগ পাবে, আবার নিজেদের পাহাড়কে ভালোবাসবে,” বলেন চাকমা সম্প্রদায়ের শিক্ষিত যুবক লালন চাকমা।
সম্প্রতি পাহাড়ি জনপদে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নের বিভিন্ন সমসাময়িক প্রকল্প শুরু হয়েছে। এটি পাহাড়িদের জীবনের মান উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। তবে উন্নয়নের ধারা এখনও অনিয়মিত, অনেক গ্রামে এখনো জীবনমানের মৌলিক চ্যালেঞ্জ টিকে আছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদ আমাদের দেশকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং মানুষের সংগ্রাম একসাথে বাঁচে। যদি নীতি নির্ধারকরা ও সমাজের সবাই একযোগে কাজ করে, তবে এই পাহাড়িদের জীবন হতে পারে আরও স্বপ্নময়, আরও সমৃদ্ধ।

আপনার মতামত লিখুন