ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে গড়ে তোলার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে গড়ে তোলার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার


আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক ভূমিকা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নাগরিকত্ববোধ, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির অন্যতম মাধ্যম। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণদের অংশগ্রহণ যেন প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ও অর্থবহ হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষাঙ্গনে ‘টোকেনিজম’ নয়, বরং কার্যকর অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের অর্থে পরিচালিত হয় এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণ সমাজ একটি বড় অংশ। নতুন বাংলাদেশের বাস্তবতায় তাদের চিন্তা-ভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কার সময়েও তরুণরাই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. রফিকুল আবরার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্র। বিভিন্ন সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ জন্য শিক্ষাঙ্গনে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন তিনি।

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ও সুযোগ নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির প্রবণতাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি, গান, নাচ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এ ধরনের একমাত্রিক ও বর্জনমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে গড়ে তোলার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক ভূমিকা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নাগরিকত্ববোধ, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির অন্যতম মাধ্যম। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণদের অংশগ্রহণ যেন প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ও অর্থবহ হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষাঙ্গনে ‘টোকেনিজম’ নয়, বরং কার্যকর অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের অর্থে পরিচালিত হয় এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণ সমাজ একটি বড় অংশ। নতুন বাংলাদেশের বাস্তবতায় তাদের চিন্তা-ভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কার সময়েও তরুণরাই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. রফিকুল আবরার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্র। বিভিন্ন সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ জন্য শিক্ষাঙ্গনে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন তিনি।

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ও সুযোগ নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির প্রবণতাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি, গান, নাচ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এ ধরনের একমাত্রিক ও বর্জনমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ