ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আবারও আদানি সাম্রাজ্যে ধস: একদিনে খোয়ালেন ৫৭০ কোটি ডলার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

আবারও আদানি সাম্রাজ্যে ধস: একদিনে খোয়ালেন ৫৭০ কোটি ডলার


তিন বছর আগের হিনডেনবার্গ প্রতিবেদনের সেই দুঃস্বপ্ন যেন আবারও ফিরে এল আদানি গোষ্ঠীর জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আইনি তৎপরতার খবরে শুক্রবার ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির ব্যক্তিগত সম্পদমূল্য কমেছে ৫৭০ কোটি (৫.৭ বিলিয়ন) ডলার। এই ধাক্কায় ফোর্বসের ধনীদের তালিকায় ৩০তম অবস্থানে নেমে গেছেন তিনি।

পুরোনো ক্ষতে নতুন আঘাত ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি হিনডেনবার্গ রিসার্চের কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে আদানির বাজার মূলধন ১ লাখ কোটি রুপি কমেছিল। কাকতালীয়ভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির এই শেষ সপ্তাহে আবারও সংকটে পড়ল গোষ্ঠীটি। শুক্রবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আদানি গোষ্ঠীর কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার কোটি রুপি বা ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। এবার পতনের মূলে রয়েছে মার্কিন আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন পদক্ষেপ।

মার্কিন আদালতের সমন ও ঘুষের অভিযোগ  রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এসইসি কর্তৃপক্ষ গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে জালিয়াতি ও ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে সরাসরি ই-মেইলে সমন পাঠানোর অনুমতি চেয়ে মার্কিন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম অভিযোগ ওঠে যে, আদানি গ্রিন এনার্জির বিদ্যুৎ বিক্রির পথ প্রশস্ত করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন তারা। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করলে তারা বিদেশে ঘুষ দিতে পারে না।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে হাহাকার শুক্রবার আদানি গ্রিন, আদানি এন্টারপ্রাইজেস ও আদানি পোর্টসের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর প্রভাবে ভারতের প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটিতেও বড় পতন ঘটে। একদিনেই ভারতীয় বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি রুপির মূলধন হারিয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষক অম্বারিশ বালিগা জানান, বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলেন আদানি গোষ্ঠী সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু এসইসির নথি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আদানি গোষ্ঠীর অবস্থান আদানি গ্রুপ অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে আসছে এবং আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সর্বশেষ সমন জারির বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) হিনডেনবার্গের অভিযোগ থেকে আদানি গোষ্ঠীকে অব্যহতি দিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলাগুলো নতুন করে গৌতম আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আবারও আদানি সাম্রাজ্যে ধস: একদিনে খোয়ালেন ৫৭০ কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


তিন বছর আগের হিনডেনবার্গ প্রতিবেদনের সেই দুঃস্বপ্ন যেন আবারও ফিরে এল আদানি গোষ্ঠীর জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আইনি তৎপরতার খবরে শুক্রবার ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির ব্যক্তিগত সম্পদমূল্য কমেছে ৫৭০ কোটি (৫.৭ বিলিয়ন) ডলার। এই ধাক্কায় ফোর্বসের ধনীদের তালিকায় ৩০তম অবস্থানে নেমে গেছেন তিনি।

পুরোনো ক্ষতে নতুন আঘাত ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি হিনডেনবার্গ রিসার্চের কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে আদানির বাজার মূলধন ১ লাখ কোটি রুপি কমেছিল। কাকতালীয়ভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির এই শেষ সপ্তাহে আবারও সংকটে পড়ল গোষ্ঠীটি। শুক্রবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আদানি গোষ্ঠীর কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার কোটি রুপি বা ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। এবার পতনের মূলে রয়েছে মার্কিন আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন পদক্ষেপ।

মার্কিন আদালতের সমন ও ঘুষের অভিযোগ  রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এসইসি কর্তৃপক্ষ গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে জালিয়াতি ও ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে সরাসরি ই-মেইলে সমন পাঠানোর অনুমতি চেয়ে মার্কিন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম অভিযোগ ওঠে যে, আদানি গ্রিন এনার্জির বিদ্যুৎ বিক্রির পথ প্রশস্ত করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন তারা। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করলে তারা বিদেশে ঘুষ দিতে পারে না।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে হাহাকার শুক্রবার আদানি গ্রিন, আদানি এন্টারপ্রাইজেস ও আদানি পোর্টসের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর প্রভাবে ভারতের প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটিতেও বড় পতন ঘটে। একদিনেই ভারতীয় বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি রুপির মূলধন হারিয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষক অম্বারিশ বালিগা জানান, বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলেন আদানি গোষ্ঠী সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু এসইসির নথি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আদানি গোষ্ঠীর অবস্থান আদানি গ্রুপ অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে আসছে এবং আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সর্বশেষ সমন জারির বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) হিনডেনবার্গের অভিযোগ থেকে আদানি গোষ্ঠীকে অব্যহতি দিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলাগুলো নতুন করে গৌতম আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ