দীর্ঘদিন পাকিস্তান ও অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি উন্নতমানের ওষুধ আমদানির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই সংক্রান্ত একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আফগান বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্প উপমন্ত্রী মাওলানা আহমদুল্লাহ জাহিদের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং রেনাটা পিএলসি-এর কারখানা পরিদর্শন শেষে এই চুক্তিতে উপনীত হয়।
চুক্তির প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
সম্প্রতি আফগান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত কোনো ওষুধ তাদের কাস্টমস দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছে তারা। চুক্তি অনুযায়ী, আফগান ব্যবসায়ীরা এখন থেকে তৃতীয় কোনো পক্ষ ছাড়াই সরাসরি বাংলাদেশের উৎপাদকদের কাছ থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন।
বেক্সিমকো ও রেনাটা বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে নিয়মিত ওষুধ রপ্তানি করছে। আফগান প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে উৎপাদনের মান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিনিয়োগের আহ্বান ও বিশেষ সুবিধা
কারখানা পরিদর্শনকালে মাওলানা আহমদুল্লাহ জাহিদ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আফগানিস্তানে সরাসরি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে বর্তমানে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শিল্প উন্নয়নে আমাদের সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।” তিনি দেশটিতে যৌথ উদ্যোগে ওষুধ উৎপাদন কারখানা স্থাপনের ওপর বিশেষ জোর দেন।
একই সঙ্গে আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মহাপরিচালক ড. নাইমুল্লাহ আয়ুবি জানান, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর পণ্য নিবন্ধন এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বিদ্যমান বিধিবিধানের আলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন মোড়
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মধ্য এশিয়ায় এক বিশাল বাজার উন্মোচিত হবে। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা ও কাবুলের মধ্যে এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘদিন পাকিস্তান ও অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি উন্নতমানের ওষুধ আমদানির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই সংক্রান্ত একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আফগান বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্প উপমন্ত্রী মাওলানা আহমদুল্লাহ জাহিদের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং রেনাটা পিএলসি-এর কারখানা পরিদর্শন শেষে এই চুক্তিতে উপনীত হয়।
চুক্তির প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
সম্প্রতি আফগান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত কোনো ওষুধ তাদের কাস্টমস দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছে তারা। চুক্তি অনুযায়ী, আফগান ব্যবসায়ীরা এখন থেকে তৃতীয় কোনো পক্ষ ছাড়াই সরাসরি বাংলাদেশের উৎপাদকদের কাছ থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন।
বেক্সিমকো ও রেনাটা বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে নিয়মিত ওষুধ রপ্তানি করছে। আফগান প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে উৎপাদনের মান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিনিয়োগের আহ্বান ও বিশেষ সুবিধা
কারখানা পরিদর্শনকালে মাওলানা আহমদুল্লাহ জাহিদ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আফগানিস্তানে সরাসরি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে বর্তমানে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শিল্প উন্নয়নে আমাদের সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।” তিনি দেশটিতে যৌথ উদ্যোগে ওষুধ উৎপাদন কারখানা স্থাপনের ওপর বিশেষ জোর দেন।
একই সঙ্গে আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মহাপরিচালক ড. নাইমুল্লাহ আয়ুবি জানান, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর পণ্য নিবন্ধন এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বিদ্যমান বিধিবিধানের আলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন মোড়
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মধ্য এশিয়ায় এক বিশাল বাজার উন্মোচিত হবে। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা ও কাবুলের মধ্যে এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন