জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে একটি মানবিক ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে আয়োজিত জেলা ১০ দলীয় ঐক্যের বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনি প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে পঞ্চগড়ের জনসভা শেষ করে তিনি দিনাজপুরের এই সমাবেশে যোগ দেন।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে আজ আমাদের কথা বলার সুযোগ থাকত না। আমরা শপথ করছি, নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। কারও কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হবে না এবং অন্য কাউকেও চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে যারা ‘বেগমপাড়া’ তৈরি করেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, এমন একটি বিচারব্যবস্থা কায়েম করা হবে যেখানে টাকা দিয়ে রায় কেনা যাবে না।
দিনাজপুরের উন্নয়নে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলের প্রতিশ্রুতি
দিনাজপুরের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মোট খাদ্য চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয় এই জেলা। তাই এখানে ব্যাপকভিত্তিক কৃষি শিল্প গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে দিনাজপুরকে একটি আধুনিক সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করার পাশাপাশি এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু ও লিচুর জন্য আধুনিক সরকারি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আদর্শ রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো সংঘাত হবে না। মানুষ অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়াই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।” নারী অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মায়ের জাতি। তাদের জন্য বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়ে ১০ দলীয় ঐক্যজোটকে জয়ী করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদসহ দিনাজপুরের ছয়টি নির্বাচনি আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। উল্লেখ্য, এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি প্রচারণা আরও বেগবান হলো।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে একটি মানবিক ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে আয়োজিত জেলা ১০ দলীয় ঐক্যের বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনি প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে পঞ্চগড়ের জনসভা শেষ করে তিনি দিনাজপুরের এই সমাবেশে যোগ দেন।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে আজ আমাদের কথা বলার সুযোগ থাকত না। আমরা শপথ করছি, নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। কারও কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হবে না এবং অন্য কাউকেও চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে যারা ‘বেগমপাড়া’ তৈরি করেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, এমন একটি বিচারব্যবস্থা কায়েম করা হবে যেখানে টাকা দিয়ে রায় কেনা যাবে না।
দিনাজপুরের উন্নয়নে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলের প্রতিশ্রুতি
দিনাজপুরের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মোট খাদ্য চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয় এই জেলা। তাই এখানে ব্যাপকভিত্তিক কৃষি শিল্প গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে দিনাজপুরকে একটি আধুনিক সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করার পাশাপাশি এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু ও লিচুর জন্য আধুনিক সরকারি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আদর্শ রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো সংঘাত হবে না। মানুষ অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়াই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।” নারী অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মায়ের জাতি। তাদের জন্য বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়ে ১০ দলীয় ঐক্যজোটকে জয়ী করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদসহ দিনাজপুরের ছয়টি নির্বাচনি আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। উল্লেখ্য, এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি প্রচারণা আরও বেগবান হলো।

আপনার মতামত লিখুন