ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের ‘কৌশলী’ জয়ে কপাল পুড়ল স্কটল্যান্ডের


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের ‘কৌশলী’ জয়ে কপাল পুড়ল স্কটল্যান্ডের


জিম্বাবুয়ের হারারেতে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের এই জয়ের ধরণ নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের নেট রান রেট সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে ব্যাটিং করে টুর্নামেন্টের সমীকরণ থেকে স্কটল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে জিম্বাবুয়েকে সুপার সিক্সে উঠতে সহায়তা করেছে।


গ্রুপ ‘সি’-এর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ২৬.২ ওভারে জয় নিশ্চিত করে। টুর্নামেন্টের জটিল সমীকরণ অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি ২৫.২ ওভারের আগে এই লক্ষ্য টপকে যেত, তবে জিম্বাবুয়ে বাদ পড়ে সুপার সিক্সে জায়গা করে নিত স্কটল্যান্ড। পয়েন্ট তালিকায় স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সম অবস্থানে থাকলেও রান রেটের সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিকরাই।


ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৮৪ রান। জয়ের জন্য তখন ১১.২ ওভারে মাত্র ৪৫ রান প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এরপরই পাকিস্তানের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সামের মিনহাস ও আহমেদ হুসাইন আকস্মিকভাবে ব্যাটিংয়ের গতি কমিয়ে দেন। পরের ১২ ওভারে কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই মাত্র ৩৬ রান তোলেন তারা। যখন জিম্বাবুয়ের নেট রান রেট স্কটল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তখনই সামের মিনহাস টানা দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। অপরাজিত ৭৪ রান করে তিনি ম্যাচসেরা হলেও পাকিস্তানের এমন ব্যাটিং রহস্যের জন্ম দিয়েছে।


সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ও প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পাকিস্তানের এই কৌশলকে সমর্থন করেছেন। তিনি ইএসপিএন ক্রিকইনফো-কে বলেন, “এটি একটি যুক্তিসংগত কৌশল ছিল। জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে ওঠায় পাকিস্তানের নেট রান রেট বেশি ভালো থাকছে। তারা প্রথমে জয় নিশ্চিত করেছে এবং পরে চতুরভাবে সমীকরণ নিজেদের পক্ষে নিয়েছে।” পাকিস্তানের এমন কৌশলের কারণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডও বিপাকে পড়েছে, কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের বড় জয়ের বিশাল রান রেট এখন আর সুপার সিক্সে যোগ হবে না।


এদিকে পাকিস্তানের এই কর্মকাণ্ড আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.১১ ধারা অনুযায়ী, কৌশলগত কারণে ম্যাচকে প্রভাবিত করা লেভেল-২ পর্যায়ের অপরাধ। তবে কোনো দল ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করলে সেখানে ধীরগতির ব্যাটিংকে অপরাধ হিসেবে প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভ ওয়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একই ধরণের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।


স্কটল্যান্ডের জন্য দিনটি অত্যন্ত হতাশাজনক হলেও পাকিস্তানের এমন বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিকেটকে আধুনিক টুর্নামেন্ট কাঠামোর একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। এখন পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের ‘কৌশলী’ জয়ে কপাল পুড়ল স্কটল্যান্ডের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


জিম্বাবুয়ের হারারেতে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের এই জয়ের ধরণ নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের নেট রান রেট সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে ব্যাটিং করে টুর্নামেন্টের সমীকরণ থেকে স্কটল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে জিম্বাবুয়েকে সুপার সিক্সে উঠতে সহায়তা করেছে।


গ্রুপ ‘সি’-এর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ২৬.২ ওভারে জয় নিশ্চিত করে। টুর্নামেন্টের জটিল সমীকরণ অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি ২৫.২ ওভারের আগে এই লক্ষ্য টপকে যেত, তবে জিম্বাবুয়ে বাদ পড়ে সুপার সিক্সে জায়গা করে নিত স্কটল্যান্ড। পয়েন্ট তালিকায় স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সম অবস্থানে থাকলেও রান রেটের সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিকরাই।


ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৮৪ রান। জয়ের জন্য তখন ১১.২ ওভারে মাত্র ৪৫ রান প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এরপরই পাকিস্তানের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সামের মিনহাস ও আহমেদ হুসাইন আকস্মিকভাবে ব্যাটিংয়ের গতি কমিয়ে দেন। পরের ১২ ওভারে কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই মাত্র ৩৬ রান তোলেন তারা। যখন জিম্বাবুয়ের নেট রান রেট স্কটল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তখনই সামের মিনহাস টানা দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। অপরাজিত ৭৪ রান করে তিনি ম্যাচসেরা হলেও পাকিস্তানের এমন ব্যাটিং রহস্যের জন্ম দিয়েছে।


সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ও প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পাকিস্তানের এই কৌশলকে সমর্থন করেছেন। তিনি ইএসপিএন ক্রিকইনফো-কে বলেন, “এটি একটি যুক্তিসংগত কৌশল ছিল। জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে ওঠায় পাকিস্তানের নেট রান রেট বেশি ভালো থাকছে। তারা প্রথমে জয় নিশ্চিত করেছে এবং পরে চতুরভাবে সমীকরণ নিজেদের পক্ষে নিয়েছে।” পাকিস্তানের এমন কৌশলের কারণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডও বিপাকে পড়েছে, কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের বড় জয়ের বিশাল রান রেট এখন আর সুপার সিক্সে যোগ হবে না।


এদিকে পাকিস্তানের এই কর্মকাণ্ড আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.১১ ধারা অনুযায়ী, কৌশলগত কারণে ম্যাচকে প্রভাবিত করা লেভেল-২ পর্যায়ের অপরাধ। তবে কোনো দল ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করলে সেখানে ধীরগতির ব্যাটিংকে অপরাধ হিসেবে প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভ ওয়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একই ধরণের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।


স্কটল্যান্ডের জন্য দিনটি অত্যন্ত হতাশাজনক হলেও পাকিস্তানের এমন বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিকেটকে আধুনিক টুর্নামেন্ট কাঠামোর একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। এখন পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ