ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের বিচার শুরু


ডিপটি প্রধান :
ডিপটি প্রধান :
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের বিচার শুরু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন খারিজ করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শুনান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। এর মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় দুই আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন পলক। তাকে সকালেই কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর আসামি জয় আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলমের মাধ্যমে।

এর আগে ১৫ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ওইদিন পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ ও জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানি করেন। তারা প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের বিরোধিতা করে দাবি করেন, জয়-পলকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এজন্য চার্জ গঠন না করার পাশাপাশি তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের আর্জি জানান।

গত ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন। ওইদিন তিনটি চার্জ পড়ে শোনানোর পাশাপাশি দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন করা হয়।

মামলায় তিনটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটি হলো—জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে পলক ফেসবুকে উসকানি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। দ্বিতীয় অভিযোগে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং হত্যায় সহায়তা প্রদান করা। এতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন শহীদ হন। তৃতীয় অভিযোগে উত্তরায় ৩৪ হত্যায় সহায়তা প্রদান।

এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ ডিসেম্বর আদালত জয়কে আত্মসমর্পণ এবং দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার থাকা পলকও একই দিন আদালতে হাজির হন। ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক চার্জ আদালত গ্রহণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের বিচার শুরু

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।


এদিন প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন খারিজ করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শুনান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। এর মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।


মামলায় দুই আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন পলক। তাকে সকালেই কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর আসামি জয় আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলমের মাধ্যমে।


এর আগে ১৫ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ওইদিন পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ ও জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানি করেন। তারা প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের বিরোধিতা করে দাবি করেন, জয়-পলকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এজন্য চার্জ গঠন না করার পাশাপাশি তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের আর্জি জানান।


গত ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন। ওইদিন তিনটি চার্জ পড়ে শোনানোর পাশাপাশি দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন করা হয়।


মামলায় তিনটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটি হলো—জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে পলক ফেসবুকে উসকানি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। দ্বিতীয় অভিযোগে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং হত্যায় সহায়তা প্রদান করা। এতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন শহীদ হন। তৃতীয় অভিযোগে উত্তরায় ৩৪ হত্যায় সহায়তা প্রদান।


এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ ডিসেম্বর আদালত জয়কে আত্মসমর্পণ এবং দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার থাকা পলকও একই দিন আদালতে হাজির হন। ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক চার্জ আদালত গ্রহণ করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ