ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তবে কি প্রতিহিংসার শিকার মেধাবী শিক্ষার্থী সুলতান?

গোবিন্দগঞ্জে তদন্ত ছাড়াই ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা


মিজানুর রহমান
মিজানুর রহমান
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে তদন্ত ছাড়াই ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা
শিকলবন্দী সুলতান

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক প্রতিহিংসার জেরে এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৎ মায়ের সাজানো মিথ্যা মাদক মামলার ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সুলতান নামে ওই তরুণকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালুককানুপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা শাইদুলের পুত্র সুলতান দীর্ঘদিন ধরে সৎ মায়ের রোষানলে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সুলতানকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে এবং তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে সৎ মা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করেন। গত কয়েকদিন আগে সুলতানের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে নিজ ঘরেই শিকলবন্দি রাখা হয়।

সবচেয়ে অমানবিক দৃশ্য দেখা যায়, যখন ওই তরুণকে শিকল দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানের অভিযোগের সত্যতা বা পারিপার্শ্বিকতা যাচাই না করেই কেবল সৎ মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুলতানকে শিকল পরা অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এলাকাবাসীর দাবি, একজন সচেতন নাগরিক ও মেধাবী ছাত্রকে কোনো প্রকার ডোপ টেস্ট বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই সাজা দেওয়াটা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

সুলতানের সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা সরাসরি এই সাজার বিরোধিতা করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুলতান মাদকাসক্ত নন; তিনি একজন মেধাবী ও ভদ্র তরুণ হিসেবে পরিচিত। পারিবারিক সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে এই মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। এছাড়া, শিকল পরিয়ে জনসম্মুখে একজন শিক্ষার্থীকে অপমান করা দেশের প্রচলিত আইনের দৃষ্টিতে অমানবিক।

একজন নিরপরাধ তরুণের শিক্ষাজীবন এবং সামাজিক মর্যাদা আজ হুমকির মুখে। তালুককানুপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে অভিযুক্ত সৎ মায়ের কঠোর শাস্তি এবং সুলতানের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে তারা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গোবিন্দগঞ্জে তদন্ত ছাড়াই ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক প্রতিহিংসার জেরে এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৎ মায়ের সাজানো মিথ্যা মাদক মামলার ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সুলতান নামে ওই তরুণকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালুককানুপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা শাইদুলের পুত্র সুলতান দীর্ঘদিন ধরে সৎ মায়ের রোষানলে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সুলতানকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে এবং তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে সৎ মা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করেন। গত কয়েকদিন আগে সুলতানের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে নিজ ঘরেই শিকলবন্দি রাখা হয়।


সবচেয়ে অমানবিক দৃশ্য দেখা যায়, যখন ওই তরুণকে শিকল দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানের অভিযোগের সত্যতা বা পারিপার্শ্বিকতা যাচাই না করেই কেবল সৎ মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুলতানকে শিকল পরা অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এলাকাবাসীর দাবি, একজন সচেতন নাগরিক ও মেধাবী ছাত্রকে কোনো প্রকার ডোপ টেস্ট বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই সাজা দেওয়াটা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।


সুলতানের সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা সরাসরি এই সাজার বিরোধিতা করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুলতান মাদকাসক্ত নন; তিনি একজন মেধাবী ও ভদ্র তরুণ হিসেবে পরিচিত। পারিবারিক সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে এই মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। এছাড়া, শিকল পরিয়ে জনসম্মুখে একজন শিক্ষার্থীকে অপমান করা দেশের প্রচলিত আইনের দৃষ্টিতে অমানবিক।


একজন নিরপরাধ তরুণের শিক্ষাজীবন এবং সামাজিক মর্যাদা আজ হুমকির মুখে। তালুককানুপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে অভিযুক্ত সৎ মায়ের কঠোর শাস্তি এবং সুলতানের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে তারা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ