জীবনের দীর্ঘ ২৮টি বসন্ত কেটে গেছে কারাগারের নিরেট চার দেওয়ালের অন্ধকারে।
অবশেষে যখন মুক্তির কাঙ্ক্ষিত ক্ষণটি এলো, ততদিনে তিনি প্রায় হারাতে বসেছেন চোখের দৃষ্টি, স্মৃতিশক্তিও আর আগের মতো কাজ করছে না।
কারাগারের ভারী লোহার দরজা পেরিয়ে যখন তিনি বাইরে পা রাখলেন, ততদিনে বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে চুলে, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে শরীর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দিঘা গ্রামের বাসিন্দা রাহেলা বেগম (৬৫) ফিরে পেলেন তার হারানো স্বাধীনতা।
রাহেলা বেগমের সাজার মেয়াদ গত ১২ জানুয়ারি শেষ হলেও আদালতের ধার্য করা মাত্র সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে না পারায় তার মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে সেই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করলে দীর্ঘ বন্দিজীবনের অবসান ঘটে তার।
১৯৯৮ সালে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যখন তিনি কারাগারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি ছিলেন মধ্যবয়সী এক নারী। সময়ের নির্মম পরিক্রমায় আজ তিনি একজন বৃদ্ধা, যার শরীর ভেঙে পড়েছে এবং স্মৃতিশক্তি হয়ে পড়েছে অত্যন্ত দুর্বল। এমনকি অনেক সময় নিজ প্রতিবেশীদেরও তিনি চিনতে পারছেন না। তবুও দীর্ঘ এই অন্ধকার সময়ে কেবল একদিন মুক্ত আকাশে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বপ্ন আঁকড়ে বেঁচে ছিলেন তিনি।
কারাগারে কাটানো দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাহেলা বেগম। রুদ্ধকণ্ঠে তিনি জানান, জেলখানায় থাকাকালীন তিনি পুলিশদের দেওয়া কাঁথা সেলাই করতেন। কিন্তু প্রতিটি দিন কাটত চরম অস্থিরতায়; কারাগারের একেকটি দিন তার কাছে একেকটি বছরের মতো দীর্ঘ মনে হতো। চার দেওয়ালের মাঝে জীবন আর সংসারের হিসাব মেলাতে না পেরে অঝোরে কাঁদতেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থ ও দুর্বল শরীরে সরকারের মানবিক দৃষ্টি কামনা করা ছাড়া আর কিছু বলার শক্তিও অবশিষ্ট নেই তার।
রাহেলার বড় বোন সাহেলা বেগম জানান, এই পৃথিবীতে রাহেলা এখন সম্পূর্ণ একা; তার আপন বলতে কেবল এই বোনটিই বেঁচে আছেন। দীর্ঘ বন্দিজীবনের মাঝে তাদের বাবা-মা পরলোকগমন করেছেন এবং রাহেলার স্বামীও অন্যত্র সংসার গড়েছেন। জীবনের শেষ বেলায় এসে বোনের বাড়িতেই আশ্রয় হয়েছে তার।
সাহেলা বেগম অনুরোধ জানান যে, সরকারিভাবে বা সমাজের বিত্তবানদের পক্ষ থেকে কোনো মানবিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারতেন ভাগ্যাহত এই বৃদ্ধা।
নওগাঁর জেল সুপার রত্না রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাহেলা বেগমের সশ্রম কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হলেও জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও প্রায় দেড় বছরের মতো কারাগারে থাকতে হতো। পরবর্তীতে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় বিশেষ অর্থায়নে সেই জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হলে গত ১২ জানুয়ারি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, দীর্ঘ বঞ্চনা শেষে জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি যেন স্বাভাবিকভাবে অতিবাহিত করতে পারেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
জীবনের দীর্ঘ ২৮টি বসন্ত কেটে গেছে কারাগারের নিরেট চার দেওয়ালের অন্ধকারে।
অবশেষে যখন মুক্তির কাঙ্ক্ষিত ক্ষণটি এলো, ততদিনে তিনি প্রায় হারাতে বসেছেন চোখের দৃষ্টি, স্মৃতিশক্তিও আর আগের মতো কাজ করছে না।
কারাগারের ভারী লোহার দরজা পেরিয়ে যখন তিনি বাইরে পা রাখলেন, ততদিনে বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে চুলে, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে শরীর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দিঘা গ্রামের বাসিন্দা রাহেলা বেগম (৬৫) ফিরে পেলেন তার হারানো স্বাধীনতা।
রাহেলা বেগমের সাজার মেয়াদ গত ১২ জানুয়ারি শেষ হলেও আদালতের ধার্য করা মাত্র সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে না পারায় তার মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে সেই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করলে দীর্ঘ বন্দিজীবনের অবসান ঘটে তার।
১৯৯৮ সালে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যখন তিনি কারাগারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি ছিলেন মধ্যবয়সী এক নারী। সময়ের নির্মম পরিক্রমায় আজ তিনি একজন বৃদ্ধা, যার শরীর ভেঙে পড়েছে এবং স্মৃতিশক্তি হয়ে পড়েছে অত্যন্ত দুর্বল। এমনকি অনেক সময় নিজ প্রতিবেশীদেরও তিনি চিনতে পারছেন না। তবুও দীর্ঘ এই অন্ধকার সময়ে কেবল একদিন মুক্ত আকাশে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বপ্ন আঁকড়ে বেঁচে ছিলেন তিনি।
কারাগারে কাটানো দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাহেলা বেগম। রুদ্ধকণ্ঠে তিনি জানান, জেলখানায় থাকাকালীন তিনি পুলিশদের দেওয়া কাঁথা সেলাই করতেন। কিন্তু প্রতিটি দিন কাটত চরম অস্থিরতায়; কারাগারের একেকটি দিন তার কাছে একেকটি বছরের মতো দীর্ঘ মনে হতো। চার দেওয়ালের মাঝে জীবন আর সংসারের হিসাব মেলাতে না পেরে অঝোরে কাঁদতেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থ ও দুর্বল শরীরে সরকারের মানবিক দৃষ্টি কামনা করা ছাড়া আর কিছু বলার শক্তিও অবশিষ্ট নেই তার।
রাহেলার বড় বোন সাহেলা বেগম জানান, এই পৃথিবীতে রাহেলা এখন সম্পূর্ণ একা; তার আপন বলতে কেবল এই বোনটিই বেঁচে আছেন। দীর্ঘ বন্দিজীবনের মাঝে তাদের বাবা-মা পরলোকগমন করেছেন এবং রাহেলার স্বামীও অন্যত্র সংসার গড়েছেন। জীবনের শেষ বেলায় এসে বোনের বাড়িতেই আশ্রয় হয়েছে তার।
সাহেলা বেগম অনুরোধ জানান যে, সরকারিভাবে বা সমাজের বিত্তবানদের পক্ষ থেকে কোনো মানবিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারতেন ভাগ্যাহত এই বৃদ্ধা।
নওগাঁর জেল সুপার রত্না রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাহেলা বেগমের সশ্রম কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হলেও জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও প্রায় দেড় বছরের মতো কারাগারে থাকতে হতো। পরবর্তীতে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় বিশেষ অর্থায়নে সেই জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হলে গত ১২ জানুয়ারি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, দীর্ঘ বঞ্চনা শেষে জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি যেন স্বাভাবিকভাবে অতিবাহিত করতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন