ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রশাসনের দ্বৈতনীতিতে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি

গণভোটের প্রচারে অংশ নেয়া সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শোকজ


মোঃ ফয়সাল সিকদার
মোঃ ফয়সাল সিকদার
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

গণভোটের প্রচারে অংশ নেয়া সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শোকজ
গণভোট প্রচারণা থেকে সংগৃহীত।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করায় তালতলী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে শোকজ করাকে কেন্দ্র করে বরগুনার তালতলী ও আমতলী উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি প্রশাসনের ভেতরের চরম সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈতনীতির বহিঃপ্রকাশ।

 জানা গেছে, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ গণভোটের প্রচার ও ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগীয় কমিশনার সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত উঠান বৈঠক ও জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।

এই নির্দেশনার আলোকে ১২ জানুয়ারি  দুপুরে বরগুনার আমতলী উপজেলায় গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী  উপস্থিত ছিলেন। উঠান বৈঠকে শতাধিক লোক সমাজসেবা বিভাগের সুবিধাভোগী অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সেই দিনই মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে তালতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অনুপস্থিত দেখিয়ে বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক  মোঃ শহিদুল ইসলাম শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। স্থানীয়দের মতে, এটি দায়িত্ব পালনের জন্য শাস্তি দেওয়ার শামিল।

ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে একটি দাপ্তরিক প্রমাণ। ১২ জানুয়ারি দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে বরগুনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ডি. এস. এস বরগুনা এ টু জেট গ্রুপে গণভোট কার্যক্রমের তথ্য পোস্ট আকারে শেয়ার করা হয়। অর্থাৎ দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রশাসনের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মেই দৃশ্যমান থাকার পরও শোকজ জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে, ইউএনওর উপস্থিতিতে এবং অফিসিয়াল গ্রুপে পোস্ট থাকা কর্মসূচিও যদি অফিস ফাঁকি হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে সরকারি দায়িত্বের সংজ্ঞা কী।

এদিকে বরগুনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার গণভোট করতে বলছে এর মানে এই না সেই দিন সে অফিস করবেন না। কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশ দেয়নি। সপ্তাহে একদিন অফিসে যাওয়ার কথা থাকলেও সেই দিন গণভোট করতে হবে, এভাবে সরকার চাপ দেয়নি। এটি এক ধরনের দুষ্টামি।

উপ-পরিচালকের এই বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের পাল্টা প্রশ্ন, যে কর্মসূচি বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে, ইউএনওর উপস্থিতিতে এবং জেলা অফিসের গ্রুপে শেয়ার হয়েছে, সেটি কীভাবে দুষ্টামি হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে আমতলী উপজেলায় মূল দায়িত্ব এবং তালতলী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বাস্তবসম্মত সময় সমন্বয় না করে শোকজ জারি করা হয়েছে। এতে একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষুব্ধ জনতার জোর দাবি অবিলম্বে শোকজ আদেশ প্রত্যাহার করে বিভাগীয় নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা চাওয়া দরকার। এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায় নিয়ে যারা মাঠে কাজ করেন, তাদের যদি এভাবে হেয় করা হয়, তাহলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই ঘটনা একজন কর্মকর্তাকে শোকজ করার বিষয় নয়; বরং এটি প্রশাসনের ভেতরের সমন্বয়হীনতা, দ্বৈতনীতি ও দায় এড়ানোর বাস্তব চিত্র হিসেবে জন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের নির্দেশ মানাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসের আয়োজনে ১২ জানুয়ারী গনভোট সম্পর্কে প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা ছিল। ও-ই সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। তারপরও কিভাবে সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল হোক কাওসারকে শোকজ করা হয়েছে তার আমি বোধগম্য নই। জেনে শুনে দাপ্তরিক বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গণভোটের প্রচারে অংশ নেয়া সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শোকজ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করায় তালতলী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে শোকজ করাকে কেন্দ্র করে বরগুনার তালতলী ও আমতলী উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি প্রশাসনের ভেতরের চরম সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈতনীতির বহিঃপ্রকাশ।


 জানা গেছে, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ গণভোটের প্রচার ও ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগীয় কমিশনার সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত উঠান বৈঠক ও জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।


এই নির্দেশনার আলোকে ১২ জানুয়ারি  দুপুরে বরগুনার আমতলী উপজেলায় গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী  উপস্থিত ছিলেন। উঠান বৈঠকে শতাধিক লোক সমাজসেবা বিভাগের সুবিধাভোগী অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সেই দিনই মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে তালতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অনুপস্থিত দেখিয়ে বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক  মোঃ শহিদুল ইসলাম শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। স্থানীয়দের মতে, এটি দায়িত্ব পালনের জন্য শাস্তি দেওয়ার শামিল।


ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে একটি দাপ্তরিক প্রমাণ। ১২ জানুয়ারি দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে বরগুনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ডি. এস. এস বরগুনা এ টু জেট গ্রুপে গণভোট কার্যক্রমের তথ্য পোস্ট আকারে শেয়ার করা হয়। অর্থাৎ দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রশাসনের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মেই দৃশ্যমান থাকার পরও শোকজ জারি করা হয়েছে।


এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে, ইউএনওর উপস্থিতিতে এবং অফিসিয়াল গ্রুপে পোস্ট থাকা কর্মসূচিও যদি অফিস ফাঁকি হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে সরকারি দায়িত্বের সংজ্ঞা কী।


এদিকে বরগুনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার গণভোট করতে বলছে এর মানে এই না সেই দিন সে অফিস করবেন না। কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশ দেয়নি। সপ্তাহে একদিন অফিসে যাওয়ার কথা থাকলেও সেই দিন গণভোট করতে হবে, এভাবে সরকার চাপ দেয়নি। এটি এক ধরনের দুষ্টামি।


উপ-পরিচালকের এই বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের পাল্টা প্রশ্ন, যে কর্মসূচি বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে, ইউএনওর উপস্থিতিতে এবং জেলা অফিসের গ্রুপে শেয়ার হয়েছে, সেটি কীভাবে দুষ্টামি হতে পারে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে আমতলী উপজেলায় মূল দায়িত্ব এবং তালতলী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বাস্তবসম্মত সময় সমন্বয় না করে শোকজ জারি করা হয়েছে। এতে একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


ক্ষুব্ধ জনতার জোর দাবি অবিলম্বে শোকজ আদেশ প্রত্যাহার করে বিভাগীয় নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা চাওয়া দরকার। এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায় নিয়ে যারা মাঠে কাজ করেন, তাদের যদি এভাবে হেয় করা হয়, তাহলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


এই ঘটনা একজন কর্মকর্তাকে শোকজ করার বিষয় নয়; বরং এটি প্রশাসনের ভেতরের সমন্বয়হীনতা, দ্বৈতনীতি ও দায় এড়ানোর বাস্তব চিত্র হিসেবে জন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের নির্দেশ মানাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে।


আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসের আয়োজনে ১২ জানুয়ারী গনভোট সম্পর্কে প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা ছিল। ও-ই সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। তারপরও কিভাবে সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল হোক কাওসারকে শোকজ করা হয়েছে তার আমি বোধগম্য নই। জেনে শুনে দাপ্তরিক বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ