বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫‑২৬‑এর চলমান আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কিন্তু অভিষেক মৌসুমে দলটির খেলা ছিল মিশ্র বার্তা দিয়ে ভরা — হতাশাজনক শুরু, কিছু উন্নতি ও ভবিষ্যতের জন্য দৃঢ় আশা।
নোয়াখালীর নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি শুরুতেই বিপিএলের মাঠে ধাক্কা খায়। টানা ছয়টি ম্যাচে পরাজয়ের পর তারা প্রথম জয়ের দেখা পায় নিজের সপ্তম ম্যাচে। এরপর দ্বিতীয় জয় এনে দলে সামান্য আত্মবিশ্বাস ফিরেছে এবং প্লে‑অফে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা এখনও জিইয়ে রেখেছে নোয়াখালীবিরা।
দলের পাকিস্তানি পেসার ইহসানউল্লাহ মনে করছেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের সামনে তিনি বলেছেন, দলটি যদিও এই মৌসুমে শিরোপা না জিততে পারে, তবুও পরের মৌসুমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস শিরোপা জিতবে — এই বিশ্বাসেই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নামছে। তিনি জানান, দলের পরিবেশ, খেলোয়াড়দের মনোবল ও সমর্থকদের শুভেচ্ছার কারণে তারা ইতিবাচকভাবে খেলছে এবং আরও উন্নতি করবে।
ইহসানউল্লাহ বলেন, “বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস নতুন একটি দল। আমাদের শুরুটা কঠিন হলেও ইনশাআল্লাহ শেষটা ভালো হবে। আর যদি এই মৌসুমে শিরোপা না হয়, তবে পরের মৌসুমে অবশ্যই হবে।” তিনি দলের তরুণ ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন দিপু‑এর ব্যাটিং এবং দলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন‑এর নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন, যা দলের ভেতরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নোয়াখালীর খেলা যদিও এই মৌসুমে স্থায়ী রূপ পায়নি, খেলোয়াড়দের যোগ্যতা ও মনোবল বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে তারা বিপিএলের অন্যতম শক্তিশালী দল হয়ে উঠতে পারে। দলের নতুনত্ব এবং অভিজ্ঞতার অভাব অবশ্যই তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, তবে উন্নতির ইঙ্গিত স্পষ্ট।
এদিকে, বিপিএলের ইতিহাসে নতুন কোনো দল উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত সফলতা পায়নি — ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জনই দলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির সবচেয়ে বড় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। নোয়াখালীর খেলা ও পরিকল্পনা তাই ভবিষ্যতের শিরোপা জয়কে লক্ষ করে চলছে।
পরের মৌসুমে কোন রূপে নোয়াখালী এক্সপ্রেস মাঠে আসবে, এবং তারা কি শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে — সেটা দেখার জন্য এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
আপনার মতামত লিখুন