বাংলাদেশে মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনমান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গ্রামীণ ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের অবস্থা দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য সমস্যা ও শিক্ষা সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান জীবিকা হলো, বেতের তৈরি সামগ্রী বানানো ও বিক্রি করা,বংশপরম্পরায় তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে ডালা, কুলা, ঝুড়ি, মাছ ধরার ফাঁদ, ডালা-চালুনি, আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ভোর থেকেই মহুলী পল্লিগুলোতে শুরু হয় কাজ। পুরুষরা বেত সংগ্রহ ও কাঁচামাল প্রস্তুত করেন, আর নারীরা বাড়িতে বসেই নিপুণ হাতে বেতের সামগ্রী বুনে নেন। শিশুদের অনেককেই অল্প বয়সেই এই কাজে যুক্ত হতে দেখা যায়, কারণ সংসারের বাড়তি আয়ের প্রয়োজন তাদের পড়াশোনার সুযোগ কেড়ে নেয়।
একজন মহুলী কারিগর বলেন, আমাদের কোনো জমিজমা নেই। বেতের কাজই আমাদের জীবন। কিন্তু এখন বেত পাওয়া কঠিন, দামও ঠিকমতো পাই না।”
সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক ও আধুনিক সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ায় বেতের পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। ফলে এই সম্প্রদায়ের মানুষের আয় দিন দিন কমছে। সরকারি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ ও বাজার সহায়তা না থাকায় তাদের জীবনমান উন্নয়ন থমকে আছে। মহুলী সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ তেমন পাচ্ছে না, এবং বৃদ্ধ ও মহিলা সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও অনেক টায় বঞ্চিত ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপর্যাপ্ত পুষ্টি, দূষিত পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা মহুলী সম্প্রদায়ের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করছে। এছাড়া পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার কারণে রোগ সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু হার বেশি। স্থানীয় সামাজিক কর্মীরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এখনও সীমিত। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া না হলে এই সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান আরও সংকীর্ণ হয়ে যাবে। মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবন প্রতিদিনই লড়াই আর সংকটে ভরা। ছোট গ্রামগুলোতে বেড়ে ওঠা শিশুদের স্কুলের বদলে রাস্তায় খেলতে দেখা যায়। বাড়ির এক কোণায় ধুলোয় লুটিয়ে থাকা, পরিচ্ছন্ন পানির অভাব, এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত পরিবারগুলোর ছবি যেন এক দুঃখজনক বাস্তবতা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনয়নের মহুলীপাড়ার গ্রামের একাধীক মহুলী পরিবার জানায়,“শিশুরা স্কুলে যেতে চায়, কিন্তু অভাব আর কষ্টের কারণে আমাদের শন্তানদের কেউ পড়াশোনা শেখায় না।
তবে চট্রগ্রাম এলাকার একাধী মহুলী পরিবার বলেন, পানি আনতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হয়। অনেক সময় পানি দূষিত, কিন্তু এ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে শিশুদের এই অবস্থাকারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্যও উদ্বেগজনক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, দূষিত পানি, পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় মহুলী সম্প্রদায়ের শিশুদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিশুর মধ্যে দেখা যাচ্ছে পুষ্টিহীনতা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং বারবার সংক্রমণের শিকার হওয়া।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলেন, মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। সরকারী উদ্যোগ থাকলেও প্রকৃত বাস্তবায়ন এখনও সীমিত। আমাদের দরকার সচেতনতা, শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সমর্থন।
মহুলী সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুরা বলছেন, আমরা চাই শুধু বেঁচে থাকার অধিকার। আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ও সুস্থ থাকার সুযোগ নিশ্চিত হোক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত হয়। না হলে, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একই সংকটের মধ্যে হারিয়ে যাবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনমান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গ্রামীণ ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের অবস্থা দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য সমস্যা ও শিক্ষা সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান জীবিকা হলো, বেতের তৈরি সামগ্রী বানানো ও বিক্রি করা,বংশপরম্পরায় তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে ডালা, কুলা, ঝুড়ি, মাছ ধরার ফাঁদ, ডালা-চালুনি, আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ভোর থেকেই মহুলী পল্লিগুলোতে শুরু হয় কাজ। পুরুষরা বেত সংগ্রহ ও কাঁচামাল প্রস্তুত করেন, আর নারীরা বাড়িতে বসেই নিপুণ হাতে বেতের সামগ্রী বুনে নেন। শিশুদের অনেককেই অল্প বয়সেই এই কাজে যুক্ত হতে দেখা যায়, কারণ সংসারের বাড়তি আয়ের প্রয়োজন তাদের পড়াশোনার সুযোগ কেড়ে নেয়।
একজন মহুলী কারিগর বলেন, আমাদের কোনো জমিজমা নেই। বেতের কাজই আমাদের জীবন। কিন্তু এখন বেত পাওয়া কঠিন, দামও ঠিকমতো পাই না।”
সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক ও আধুনিক সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ায় বেতের পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। ফলে এই সম্প্রদায়ের মানুষের আয় দিন দিন কমছে। সরকারি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ ও বাজার সহায়তা না থাকায় তাদের জীবনমান উন্নয়ন থমকে আছে। মহুলী সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ তেমন পাচ্ছে না, এবং বৃদ্ধ ও মহিলা সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও অনেক টায় বঞ্চিত ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপর্যাপ্ত পুষ্টি, দূষিত পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা মহুলী সম্প্রদায়ের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করছে। এছাড়া পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার কারণে রোগ সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু হার বেশি। স্থানীয় সামাজিক কর্মীরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এখনও সীমিত। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া না হলে এই সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান আরও সংকীর্ণ হয়ে যাবে। মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবন প্রতিদিনই লড়াই আর সংকটে ভরা। ছোট গ্রামগুলোতে বেড়ে ওঠা শিশুদের স্কুলের বদলে রাস্তায় খেলতে দেখা যায়। বাড়ির এক কোণায় ধুলোয় লুটিয়ে থাকা, পরিচ্ছন্ন পানির অভাব, এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত পরিবারগুলোর ছবি যেন এক দুঃখজনক বাস্তবতা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনয়নের মহুলীপাড়ার গ্রামের একাধীক মহুলী পরিবার জানায়,“শিশুরা স্কুলে যেতে চায়, কিন্তু অভাব আর কষ্টের কারণে আমাদের শন্তানদের কেউ পড়াশোনা শেখায় না।
তবে চট্রগ্রাম এলাকার একাধী মহুলী পরিবার বলেন, পানি আনতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হয়। অনেক সময় পানি দূষিত, কিন্তু এ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে শিশুদের এই অবস্থাকারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্যও উদ্বেগজনক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, দূষিত পানি, পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় মহুলী সম্প্রদায়ের শিশুদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিশুর মধ্যে দেখা যাচ্ছে পুষ্টিহীনতা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং বারবার সংক্রমণের শিকার হওয়া।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলেন, মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। সরকারী উদ্যোগ থাকলেও প্রকৃত বাস্তবায়ন এখনও সীমিত। আমাদের দরকার সচেতনতা, শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সমর্থন।
মহুলী সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুরা বলছেন, আমরা চাই শুধু বেঁচে থাকার অধিকার। আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ও সুস্থ থাকার সুযোগ নিশ্চিত হোক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, মহুলী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত হয়। না হলে, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একই সংকটের মধ্যে হারিয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন