ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিড়াল কবে থেকে মানুষের বন্ধু


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

বিড়াল কবে থেকে মানুষের বন্ধু

মানুষ ও বিড়াল—আজ বিশ্বের বহু ঘরে ঘেমে থাকা এই ফুসফুসুছোঁয়া প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘকালীন। কিন্তু সাম্প্রতিক DNA বিশ্লেষণ ও জীবাশ্ম (ancient DNA) গবেষণা আগের ধারণা থেকে অনেকটাই আলাদা চিত্র তুলে ধরেছে, যার ফলে বিড়াল কর্তৃত্বকালে মানুষের ‘বন্ধু’ হওয়ার সময় ও রহস্য নতুন করে পুনর্মূল্যায়িত হচ্ছে।

গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে ধরে আসা ধারণা ছিল যে বিড়ালরা প্রথম কৃষিকাজের সময় মানব সমাজের কাছে আসে প্রায় ৯,০০০–১০,০০০ বছর আগে, যখন বীজ এবং ধান–আটকাকৃত খাদ্য ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে ইনজুর (rodents) আকৃষ্ট করত এবং বিড়াল সেই ইঁদুর ধরতে মানুষের আশ্রয়ে চলে এসেছিল। সেই ধারণাটি প্রাথমিকভাবে সাইপ্রাস দ্বীপে পাওয়া প্রায় ৯,৫০০ বছর পুরনো কবর থেকে এসেছে যেখানে মানুষের পাশেই বিড়ালের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণার পুরোনো ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। DNA বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজকের ঘরোয়া বিড়াল (Felis catus) আসলে উত্তর আফ্রিকার African wildcat (Felis silvestris lybica) থেকে এসেছে এবং এই স্তরের প্রাথমিক বাস্তব “ঘরোয়া” বৈশিষ্ট্য সম্ভবত স্থানান্তরিত হয়েছে অনেক পরে, প্রায় ২,০০০ বছর আগে। এই সময়ের মধ্যে বিড়াল উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে এসেছে এবং রোমান যুগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়া DNA প্রমাণ থেকে দেখা গেছে যে প্রায় ১৪০০ বছর আগে বাণিজ্যিক সিল্ক রোড পথে বিড়াল চীনে স্থায়ীভাবে পৌঁছায়। এর আগে পাওয়া বিভিন্ন নিদর্শন মূলত আলাদা প্রজাতির ছোট বিড়াল (যেমন লেপার্ড ক্যাট) বা স্থানীয় বন্য প্রজাতির ছিল, যা মানুষের আশ্রয়ে থাকলেও তারা আজকের ঘরোয়া বিড়ালের সরাসরি পূর্বপুরুষ নয়।

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে যে মানব–বিড়ালের উন্নয়নকাল (evolutionary timeline) আগের ধারণার মতো সরল ছিল না। মানব–বিড়ালের সম্পর্ক ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে: প্রথমে বন্য বিড়ালরা মানুষের আশপাশে আসে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য, পরে মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় এবং প্রজননের সঙ্গে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়; সবশেষে রোমান যুগ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ফলে বিড়ালগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপ ও এশিয়ায়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিড়াল কবে থেকে মানুষের বন্ধু

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মানুষ ও বিড়াল—আজ বিশ্বের বহু ঘরে ঘেমে থাকা এই ফুসফুসুছোঁয়া প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘকালীন। কিন্তু সাম্প্রতিক DNA বিশ্লেষণ ও জীবাশ্ম (ancient DNA) গবেষণা আগের ধারণা থেকে অনেকটাই আলাদা চিত্র তুলে ধরেছে, যার ফলে বিড়াল কর্তৃত্বকালে মানুষের ‘বন্ধু’ হওয়ার সময় ও রহস্য নতুন করে পুনর্মূল্যায়িত হচ্ছে।

গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে ধরে আসা ধারণা ছিল যে বিড়ালরা প্রথম কৃষিকাজের সময় মানব সমাজের কাছে আসে প্রায় ৯,০০০–১০,০০০ বছর আগে, যখন বীজ এবং ধান–আটকাকৃত খাদ্য ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে ইনজুর (rodents) আকৃষ্ট করত এবং বিড়াল সেই ইঁদুর ধরতে মানুষের আশ্রয়ে চলে এসেছিল। সেই ধারণাটি প্রাথমিকভাবে সাইপ্রাস দ্বীপে পাওয়া প্রায় ৯,৫০০ বছর পুরনো কবর থেকে এসেছে যেখানে মানুষের পাশেই বিড়ালের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণার পুরোনো ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। DNA বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজকের ঘরোয়া বিড়াল (Felis catus) আসলে উত্তর আফ্রিকার African wildcat (Felis silvestris lybica) থেকে এসেছে এবং এই স্তরের প্রাথমিক বাস্তব “ঘরোয়া” বৈশিষ্ট্য সম্ভবত স্থানান্তরিত হয়েছে অনেক পরে, প্রায় ২,০০০ বছর আগে। এই সময়ের মধ্যে বিড়াল উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে এসেছে এবং রোমান যুগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়া DNA প্রমাণ থেকে দেখা গেছে যে প্রায় ১৪০০ বছর আগে বাণিজ্যিক সিল্ক রোড পথে বিড়াল চীনে স্থায়ীভাবে পৌঁছায়। এর আগে পাওয়া বিভিন্ন নিদর্শন মূলত আলাদা প্রজাতির ছোট বিড়াল (যেমন লেপার্ড ক্যাট) বা স্থানীয় বন্য প্রজাতির ছিল, যা মানুষের আশ্রয়ে থাকলেও তারা আজকের ঘরোয়া বিড়ালের সরাসরি পূর্বপুরুষ নয়।

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে যে মানব–বিড়ালের উন্নয়নকাল (evolutionary timeline) আগের ধারণার মতো সরল ছিল না। মানব–বিড়ালের সম্পর্ক ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে: প্রথমে বন্য বিড়ালরা মানুষের আশপাশে আসে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য, পরে মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় এবং প্রজননের সঙ্গে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়; সবশেষে রোমান যুগ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ফলে বিড়ালগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপ ও এশিয়ায়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ