ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যে আত্মীয়দের যাকাত দেওয়া যাবে না


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

যে আত্মীয়দের যাকাত দেওয়া যাবে না

ইসলামে যাকাত হলো দরিদ্র ও নিপীড়িত মুসলিমদের সহায়তার উদ্দেশ্যে আরোপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। তবে ইসলামিক ফিকহ অনুযায়ী সব আত্মীয়কে যাকাত দেওয়া অনুমোদিত নয়। বিশেষত যারা আপনার ওপর নির্ভরশীল বা যাদের জীবিকাভরের দায়িত্ব আপনার হাতে থাকে, তাদের কাছে সরাসরি যাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও নিপীড়িতদের সহায়তা করা, যাতে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন চালাতে পারে। এটি ব্যক্তিগত দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নয়। তাই যেসব আত্মীয় আপনার খরচের দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছে যাকাত দেওয়া ইসলামের নিয়মে সঠিক নয়।

ফিকহিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, সন্তান এবং নাতি-নাতনি তাদের কাছে যাকাত দেওয়া যায় না। কারণ তাদের জীবিকাভরের দায়িত্ব আপনি বহন করেন। একইভাবে স্ত্রী বা স্বামীকে যাকাত দেওয়া বৈধ নয়, কারণ তাদের খরচের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবে আপনার ওপর।

অন্যদিকে কিছু আত্মীয় রয়েছে যাদেরকে শর্তসাপেক্ষে যাকাত দেওয়া যায়। ভাই-বোন, কাকা/চাচা/মামা, ফু ফু, ভাগ্নে-ভগ্নিপতি ইত্যাদি আত্মীয়রা যদি নিসাবের নিচে দরিদ্র থাকে এবং আপনার জীবিকাভরের বাইরে থাকে, তাদের যাকাত দেওয়া বৈধ ও উত্তম। ইসলামী হাদিস ও ফিকহে এই ধরনের সহায়তা করা প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া ইসলামী ফিকহে আরও বলা হয়েছে, ধনী বা নিজের খরচ চালাতে সক্ষম ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে না। সাধারণভাবে অমুসলিমরা সাধারণত যাকাত গ্রহণ করতে পারেন না, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

 ইসলামিক বিধান অনুযায়ী সরাসরি জীবিকাভরের দায়িত্বে থাকা আত্মীয়দের কাছে যাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ। অন্য আত্মীয় এবং নিসাবের নিচে থাকা দরিদ্রদের কাছে যাকাত দেওয়া বৈধ ও উত্তম। ইসলামী ফিকহ ও শরীয়াহ অনুযায়ী এই নিয়ম মেনে যাকাত প্রদান করলে তা পূর্ণাঙ্গ ও শুদ্ধ ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


যে আত্মীয়দের যাকাত দেওয়া যাবে না

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইসলামে যাকাত হলো দরিদ্র ও নিপীড়িত মুসলিমদের সহায়তার উদ্দেশ্যে আরোপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। তবে ইসলামিক ফিকহ অনুযায়ী সব আত্মীয়কে যাকাত দেওয়া অনুমোদিত নয়। বিশেষত যারা আপনার ওপর নির্ভরশীল বা যাদের জীবিকাভরের দায়িত্ব আপনার হাতে থাকে, তাদের কাছে সরাসরি যাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও নিপীড়িতদের সহায়তা করা, যাতে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন চালাতে পারে। এটি ব্যক্তিগত দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নয়। তাই যেসব আত্মীয় আপনার খরচের দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছে যাকাত দেওয়া ইসলামের নিয়মে সঠিক নয়।

ফিকহিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, সন্তান এবং নাতি-নাতনি তাদের কাছে যাকাত দেওয়া যায় না। কারণ তাদের জীবিকাভরের দায়িত্ব আপনি বহন করেন। একইভাবে স্ত্রী বা স্বামীকে যাকাত দেওয়া বৈধ নয়, কারণ তাদের খরচের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবে আপনার ওপর।

অন্যদিকে কিছু আত্মীয় রয়েছে যাদেরকে শর্তসাপেক্ষে যাকাত দেওয়া যায়। ভাই-বোন, কাকা/চাচা/মামা, ফু ফু, ভাগ্নে-ভগ্নিপতি ইত্যাদি আত্মীয়রা যদি নিসাবের নিচে দরিদ্র থাকে এবং আপনার জীবিকাভরের বাইরে থাকে, তাদের যাকাত দেওয়া বৈধ ও উত্তম। ইসলামী হাদিস ও ফিকহে এই ধরনের সহায়তা করা প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া ইসলামী ফিকহে আরও বলা হয়েছে, ধনী বা নিজের খরচ চালাতে সক্ষম ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে না। সাধারণভাবে অমুসলিমরা সাধারণত যাকাত গ্রহণ করতে পারেন না, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

 ইসলামিক বিধান অনুযায়ী সরাসরি জীবিকাভরের দায়িত্বে থাকা আত্মীয়দের কাছে যাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ। অন্য আত্মীয় এবং নিসাবের নিচে থাকা দরিদ্রদের কাছে যাকাত দেওয়া বৈধ ও উত্তম। ইসলামী ফিকহ ও শরীয়াহ অনুযায়ী এই নিয়ম মেনে যাকাত প্রদান করলে তা পূর্ণাঙ্গ ও শুদ্ধ ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ