ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অপপ্রচারে লিপ্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্র

লামায় প্রশাসনকে বিতর্কিত করার অভিযোগ


চৌধুরী মোহাম্মদ সুজন
চৌধুরী মোহাম্মদ সুজন
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

লামায় প্রশাসনকে বিতর্কিত করার অভিযোগ

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধারাবাহিকভাবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং ভুক্তভোগীদের দেওয়া বক্তব্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত চক্রটি চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়, ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত।

সম্প্রতি মো. মামুন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা ইউএমবি ইটভাটার মালিক দাবি করে একটি ভিডিও বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কয়েকজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করা হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই মো. মামুন আরেকটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, একটি ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে গল্প করার সময় তার কথাবার্তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় তাকে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মো. মামুন স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ইউএমবি ইটভাটার মালিক নন এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন কিংবা অফিস সহায়ক মো. সোহেলের কাছে কখনো কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করেননি।

একটি সূত্র জানায়, মো. মঈন উদ্দিন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা, পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদানসহ প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা হয় এবং সাতটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। সে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় একজন ব্যক্তিকে ইটভাটা মালিক সাজিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য বিকৃত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার সহকারীকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তার এ ধরনের সাহসী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সচেতন মহল বলেন, জনস্বার্থে কাজ করতে গেলে বাধা ও ষড়যন্ত্র আসবেই, তবে এতে থেমে গেলে চলবে না—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে হবে।

এ বিষয়ে অফিস সহকারী মো. সোহেল জানান, সুবিধা না পেয়ে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং–১৩১৯১/২২ অনুযায়ী ইউএমবি ইটভাটার মালিক মকছুদ আহাম্মদ। ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার আহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি চক্র কাজ করছে। তিনি আরও জানান, লামা উপজেলা কিংবা বান্দরবান জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের অনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, কোনো ইটভাটা মালিকের সঙ্গে তার অনৈতিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। বরং নিয়মিত অভিযান, জরিমানা, কারাদণ্ড ও ইটভাটা ধ্বংসই প্রমাণ করে প্রশাসনের অবস্থান কতটা কঠোর। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে মোবাইল কোর্টসহ প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


লামায় প্রশাসনকে বিতর্কিত করার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধারাবাহিকভাবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।


সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং ভুক্তভোগীদের দেওয়া বক্তব্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত চক্রটি চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়, ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত।


সম্প্রতি মো. মামুন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা ইউএমবি ইটভাটার মালিক দাবি করে একটি ভিডিও বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কয়েকজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করা হয়।


ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই মো. মামুন আরেকটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, একটি ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে গল্প করার সময় তার কথাবার্তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় তাকে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মো. মামুন স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ইউএমবি ইটভাটার মালিক নন এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন কিংবা অফিস সহায়ক মো. সোহেলের কাছে কখনো কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করেননি।


একটি সূত্র জানায়, মো. মঈন উদ্দিন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা, পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদানসহ প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা হয় এবং সাতটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। সে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় একজন ব্যক্তিকে ইটভাটা মালিক সাজিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য বিকৃত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার সহকারীকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।


নির্বাহী কর্মকর্তার এ ধরনের সাহসী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সচেতন মহল বলেন, জনস্বার্থে কাজ করতে গেলে বাধা ও ষড়যন্ত্র আসবেই, তবে এতে থেমে গেলে চলবে না—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে হবে।


এ বিষয়ে অফিস সহকারী মো. সোহেল জানান, সুবিধা না পেয়ে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।


বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং–১৩১৯১/২২ অনুযায়ী ইউএমবি ইটভাটার মালিক মকছুদ আহাম্মদ। ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার আহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি চক্র কাজ করছে। তিনি আরও জানান, লামা উপজেলা কিংবা বান্দরবান জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের অনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, কোনো ইটভাটা মালিকের সঙ্গে তার অনৈতিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। বরং নিয়মিত অভিযান, জরিমানা, কারাদণ্ড ও ইটভাটা ধ্বংসই প্রমাণ করে প্রশাসনের অবস্থান কতটা কঠোর। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে মোবাইল কোর্টসহ প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ