খতনা করাতে হাসি-আনন্দ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল সাত বছরের শিশু মোস্তাফা রোহান। কিন্তু চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে সেই হাসপাতাল থেকেই তাকে ফিরতে হয়েছে নিথর দেহ হয়ে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মোস্তাফা রোহান চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামের আবু মুসার ছেলে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনার জন্য নেওয়া হলে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুটির বাবা আবুল মূসা মানিক অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় শারীরিক চেকআপ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তার ছেলেকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশনের প্রস্তুতিকালেই শিশুর অবস্থার অবনতি হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। অবস্থা গুরুতর হলে পরে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।
নিহতের মা সুমি আক্তার অভিযোগ করেন, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। চিকিৎসকের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনা একটি পরিকল্পিত হত্যার শামিল এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় এবং এতে খুব কম ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেয়। তবে এ ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
এদিকে বোয়ালখালী উপজেলার আপেল আহমদসংলগ্ন গোয়াজ তালুকদার বাড়িতে নিহত শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে নিহত শিশুর স্বজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও একাধিক পোস্ট দিয়েছেন, যেখানে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
খতনা করাতে হাসি-আনন্দ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল সাত বছরের শিশু মোস্তাফা রোহান। কিন্তু চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে সেই হাসপাতাল থেকেই তাকে ফিরতে হয়েছে নিথর দেহ হয়ে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মোস্তাফা রোহান চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামের আবু মুসার ছেলে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনার জন্য নেওয়া হলে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুটির বাবা আবুল মূসা মানিক অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় শারীরিক চেকআপ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তার ছেলেকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশনের প্রস্তুতিকালেই শিশুর অবস্থার অবনতি হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। অবস্থা গুরুতর হলে পরে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।
নিহতের মা সুমি আক্তার অভিযোগ করেন, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। চিকিৎসকের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনা একটি পরিকল্পিত হত্যার শামিল এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় এবং এতে খুব কম ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেয়। তবে এ ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
এদিকে বোয়ালখালী উপজেলার আপেল আহমদসংলগ্ন গোয়াজ তালুকদার বাড়িতে নিহত শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে নিহত শিশুর স্বজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও একাধিক পোস্ট দিয়েছেন, যেখানে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন