শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নানা স্থানে ত্বকের শুষ্কতা ও খসখসে ভাব নিয়ে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে ত্বক রুক্ষ, টানটান ও চামড়া খসে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শীতে অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল, কড়া সাবান ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজার না লাগানোর অভ্যাস ত্বকের শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই এ সময়ে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।
শীতের খসখসে ত্বক সামাল দিতে ঘরেই থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান অত্যন্ত কার্যকর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত তিনটি উপাদান হলো—ঘি, মধু এবং কলা/নারকেল তেল। এসব উপাদান সহজলভ্য এবং রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় ত্বকের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না।
ঘি ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ঘির সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে শুষ্কতা কমে এবং ত্বক নরম হয়। হলুদের অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি গুণ ত্বকের জ্বালা, লালচে ভাব এবং রুক্ষতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে মধু শীতকালীন ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা দূর করে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, মধু ও দুধ কিংবা মালাই মিশিয়ে তৈরি প্যাক শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী, যা ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে।
এ ছাড়া পাকা কলা ও নারকেল তেলের মিশ্রণও শীতে ত্বক আর্দ্র রাখতে দারুণ কার্যকর বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। কলায় থাকা ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ ত্বককে পুনর্জীবিত করে, আর নারকেল তেল ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা ধরে রেখে রুক্ষতা কমায়। এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক হয় নরম, সতেজ ও স্বাস্থ্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে ত্বকের যত্ন শুধু উপাদান ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগানো, কড়া সাবান এড়িয়ে চলা, হালকা গরম পানিতে গোসল করা এবং ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
শীতের রুক্ষতা মোকাবিলায় তাই ঘরোয়া উপাদান ও সঠিক অভ্যাস একসঙ্গে অনুসরণ করলে সহজেই ফিরে পাওয়া যায় কোমল, উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বক। আপনি চাইলে এই তিন উপাদান দিয়ে আলাদা ঘরোয়া মাস্কের রেসিপিও সাজিয়ে দিতে পারি।
আপনার মতামত লিখুন