জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে পদত্যাগপত্রসহ বিষয়টি প্রকাশ করে বলেন, তিনি আর এনসিপির নীতির সঙ্গে নিজেকে একাত্মবোধ করতে পারছেন না।
নীলিমা দোলা তার পোস্ট ও পদত্যাগপত্রে দাবি করেন, এনসিপি তার প্রতিষ্ঠাকালীন মধ্যপন্থী, প্রগতিশীল লক্ষ্যের জায়গা থেকে পুরোটাই ডানপন্থী রাজনীতির দিকে সরে গেছে এবং বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীসহ ঐক্য/জোট-রাজনীতির পথে দল গিয়েছে, যা তার মতে আদর্শগত দিক থেকে ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “এটি কোনো কৌশলগত জোট নয়” এবং এমন মনোনয়ন-সমঝোতা ও প্রস্তুতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করা হয়েছে।”
দোলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের জোট আর মনোনয়ন প্রক্রিয়া দলীয় সদস্যদের অচেতনভাবে রাখা হয়েছে এবং এর ফলে এমন সিদ্ধান্তগুলোতে দলের ভেতরে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখা যায় না।”
পদত্যাগ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এনসিপির ভেতরে ইতোমধ্যেই অন্যান্য নেতাদেরও অনাস্থা প্রকাশ ও পদত্যাগের ধারা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়সহ কমপক্ষে ১৩-১৪ জন নেতা বিভিন্ন সময় তাদের পদ ছেড়ে দিতে শুরু করেছেন, যাদের অধিকাংশই জামায়াতে ইসলামী-সহ জোট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি যেহেতু নিজেকে মধ্যপন্থী এবং তেজস্বী পরিবর্তনের প্রতিশ্রুত ধারায় গড়ে তুলেছিল, সেখানে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা যুক্ত রাজনৈতিক জোটের সাথে হাত মেলানো অনেক সদস্যের কাছে দলের মূল রাজনৈতিক পরিচয়ের বিপরীতে মনে হচ্ছে। এই কারণে শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেতরে ভাঙন দৃশ্যমান হয়েছে।
এদিকে নীলিমা দোলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত অর্থে রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করেন, এনসিপি ফিরে আসবে তার মূল আদর্শের দিকে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি যে তিনি অন্য কোনো নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত হবেন কি না।
এই পদত্যাগের ঘটনা বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগামুহূর্তে আসে, যেখানে এনসিপি ইতোমধ্যে ১২২টি আসনে প্রার্থীর ঘোষণা করেছে এবং অন্য দলগুলোর সাথে জোট-আলোচনায় জড়িত রয়েছে। প্রতিপক্ষ ও সমর্থক উভয় পক্ষই মনে করছেন, এই ধরনের ভাঙন দলের গণতান্ত্রিক অনুভূতি ও ভোট-ব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে পদত্যাগপত্রসহ বিষয়টি প্রকাশ করে বলেন, তিনি আর এনসিপির নীতির সঙ্গে নিজেকে একাত্মবোধ করতে পারছেন না।
নীলিমা দোলা তার পোস্ট ও পদত্যাগপত্রে দাবি করেন, এনসিপি তার প্রতিষ্ঠাকালীন মধ্যপন্থী, প্রগতিশীল লক্ষ্যের জায়গা থেকে পুরোটাই ডানপন্থী রাজনীতির দিকে সরে গেছে এবং বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীসহ ঐক্য/জোট-রাজনীতির পথে দল গিয়েছে, যা তার মতে আদর্শগত দিক থেকে ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “এটি কোনো কৌশলগত জোট নয়” এবং এমন মনোনয়ন-সমঝোতা ও প্রস্তুতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করা হয়েছে।”
দোলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের জোট আর মনোনয়ন প্রক্রিয়া দলীয় সদস্যদের অচেতনভাবে রাখা হয়েছে এবং এর ফলে এমন সিদ্ধান্তগুলোতে দলের ভেতরে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখা যায় না।”
পদত্যাগ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এনসিপির ভেতরে ইতোমধ্যেই অন্যান্য নেতাদেরও অনাস্থা প্রকাশ ও পদত্যাগের ধারা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়সহ কমপক্ষে ১৩-১৪ জন নেতা বিভিন্ন সময় তাদের পদ ছেড়ে দিতে শুরু করেছেন, যাদের অধিকাংশই জামায়াতে ইসলামী-সহ জোট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি যেহেতু নিজেকে মধ্যপন্থী এবং তেজস্বী পরিবর্তনের প্রতিশ্রুত ধারায় গড়ে তুলেছিল, সেখানে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা যুক্ত রাজনৈতিক জোটের সাথে হাত মেলানো অনেক সদস্যের কাছে দলের মূল রাজনৈতিক পরিচয়ের বিপরীতে মনে হচ্ছে। এই কারণে শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেতরে ভাঙন দৃশ্যমান হয়েছে।
এদিকে নীলিমা দোলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত অর্থে রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করেন, এনসিপি ফিরে আসবে তার মূল আদর্শের দিকে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি যে তিনি অন্য কোনো নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত হবেন কি না।
এই পদত্যাগের ঘটনা বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগামুহূর্তে আসে, যেখানে এনসিপি ইতোমধ্যে ১২২টি আসনে প্রার্থীর ঘোষণা করেছে এবং অন্য দলগুলোর সাথে জোট-আলোচনায় জড়িত রয়েছে। প্রতিপক্ষ ও সমর্থক উভয় পক্ষই মনে করছেন, এই ধরনের ভাঙন দলের গণতান্ত্রিক অনুভূতি ও ভোট-ব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন